বাংলাদেশে মাত্র ২৭৫০ টি পোস্ট অফিস রয়েছে। প্রায় ১ বছর হতে যাচ্ছে অথচ এখনো e-Passport ফর্ম ফিলাপ করতে গিয়ে অনেকে পোস্ট অফিস নাম খুঁজে পাচ্ছে না, এটা কোন ধরনের হয়রানিমূলক কাজ?

যাদেরকে দিয়ে অনলাইন এপ্লিকেশন প্লাটফর্ম বানিয়েছে তারা কি ঘুমিয়ে থাকে? তারা কি ডাটাবেজে ২৭৫০ টি পোস্ট অফিসের নাম আ্যড করতে পারেন নাই?আর এই প্রজেক্ট ফাইনালি যেসব অফিসার অনুমোদন দিয়েছিল তারা কি ২৭৫০ টি পোস্ট অফিস নাম আছে কিনা সেটা যাচাই না করেই সাইট চালু করে দিলো?ভালো কথা, নতুন কিছু করতে গেলে ভুলভ্রান্তি হতেই পারে তাই বলে গভঃ এর এরকম বৃহৎ প্রোজেক্টে এরকম ভুল মেনে নিবো কেন?

কারণ এই ভুল তো গত ৬ মাস ধরে চলছে এবং বহু ভুক্তভোগী পাসপোর্ট আবেদনকারি শত শত পোস্ট করেছে এই ভুল সম্পর্কে তবুও কোন সংশোধন নেই। এসব কি চোখে পড়েনা?কেউ হয়তো এডি স্যারের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলে তারা বলে যে অপশনের মধ্যে পাশের কোন পোস্ট অফিস নাম থাকলে সেটি দিয়ে দিন। কিন্তু কেন এই উদাসীনতা? পাশের পোস্ট অফিস নাম কেন দিবে?

এই সামান্য আপডেট তো কয়েকদিনের মধ্যেই সমাধান করে দেওয়া উচিত। এটি সমাধান করাতো কঠিন কিছু নয়, শুধু কোডিং এর ভিতর কয়েকটা মিসিং পোস্ট অফিস নাম ও কোড বসিয়ে দিয়ে আপডেট করে দিবে। এই ঘোড়াR ডিমের আপডেট দিতে কি আবার বিশেষ কিছু লাগে নাকি? যেখানে ডাটাবেজ অপশন আছে সেখানে কয়েকটা নাম বসিয়ে কোডিং এর হুকে ঢুকিয়ে দিবে, এই তো আর তো কিছু নয়।পাসপোর্ট অফিসের এডি স্যার পাসপোর্ট অধিদপ্তরে চিঠি দিয়ে দ্রুত আপডেট করতে বললে মাত্র ৩/৪ দিনের মধ্যেই সেটা সম্ভব অথচ মাসের পর মাস চলে যাচ্ছে অথচ এই বিষয়ের কোন আপডেট করছেনা। সরকারি অফিসাররা

এতো কেয়ারলেস কেন হয় বুঝে আসছে না। যে সমস্যার সমাধান ৭ দিনেই করা সম্ভব সেই জিনিস ত্যানা প্যাচাতে প্যাচাতে ৬ মাস+ হয়ে গেলেও কারো কোন সমাধান নেই, আশ্চর্য! খুব ভালো কাজ করেছে এতে কোন সন্দেহ নেই কারণ এখন ঘরে বসে ফর্ম ফিলাপ, জমা দেওয়ার তারিখ ও সত্যায়িত করার ঝামেলা নেই এবং স্টুডিও ছবির ঝামেলাও কমিয়ে দিয়েছে।

কিন্তু আর কয়েকটি ধাপ আপডেট করলে এটি হবে অসাধারণ এক প্রজেক্ট কারণ অনেকে পাসপোর্ট ফর্ম ফিলাপ করে সাবমিট দেওয়ার পর কিছু না কিছু ভুল করে বসে যেমন

√ কেউ Given নাম ভুল দিয়েছে

√ কেউ Given নাম মোটেও দেন নাই

√ কেউ Sur নামের স্পেলিং ভুল হয়েছে

√ কারো ঠিকানা ভুল হয়েছে

√ কারো হয়তো জমার তারিখ দেওয়া ভুল হয়েছে

√ কেউ হয়তো বাবা-মার নাম ভুল করেছে

তো কথা হচ্ছে, সাবমিট দেওয়ার পর প্রিন্ট করেন অনেকে তারপর এসব ভুলগুলো চোখে পড়ে কিন্তু এটি আর সংশোধন করার কোন অপশন রাখে নাই, এটা তো ই-সিস্টেম হলোনা??এটি সংশোধন বা ডিলিট করতে হলে এডি স্যারের কাছে দরখাস্ত করে সাইন সাক্ষর নিয়ে তারপর ডিলিট বা এডিটিং করতে হবে। কিন্তু কেন?

আপনারা চাইলেই তো ভিতরে এক্সট্রা অপশন রাখতে পারেন অর্থাৎ ফাইনাল সাবমিট করার পর ২৪ ঘণ্টা সময় দিতে পারেন সংশোধন করবার জন্য অর্থাৎ কারো কোন ভুল হলে এই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এডিটিং করে পুনরায় সাবমিট করে প্রিন্ট করতে পারবে।

অথবা ভুলের জন্য জরিমানা হিসেবে ২০০/৩০০ টাকা বরাদ্দ সিস্টেম রাখতে পারে, এতে করে প্রতিদিন ২/৩ লক্ষ টাকার উপর পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ফান্ডে আ্যড হবে কারণ প্রতিদিন যদি ১০ হাজার জন পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করে তবে অন্তত ১০% মানুষের ভুল হবেই, এটা কোন ভাবে রিমুভ করা সম্ভব নয়। অনলাইন বা বিকাশ/রকেটে ফি জমা দেওয়ার পর সেটা নিশ্চিতকরণ মেসেজ পাওয়ার পর প্রত্যেক ব্যক্তি বা আইডি এডিটিং করার অপশন একটিভ হবে।

তারপর দ্রুত এডিটিং করে আবার সাবমিট করবে। যদি আবারো কোন ভুল করে তখন ২য় বার এডিটিং করতে হলে ৫০০ টাকা জরিমানা দিয়ে আবারো এডিট করার অপশন একটিভ হবে এবং ফাইনালি সংশোধন করে সাবমিট করবে। এরকম অপশন আ্যড করলে ই-পাসপোর্ট মানুষের জন্য আরো সহজ হবে বলে মনে করছি।ই-পাসপোর্ট এর পেপারস এনালগ সিস্টেমে ভেরিফাই না করে ই-সিস্টেমে ভেরিফাই করলে বহু কাজ সহজ হবে এবং পাসপোর্ট অফিসের অফিসাররা সহজে কাজ করতে পারবে এবং জনগণ হয়রানি হবেনা, একদম সহজে হয়ে যাবে।

দেশকে উন্নত করতে চাইলে উন্নত চিন্তা ভাবনা করুন, এরকম প্যাচগোচ রেখে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন। অযথা মানুষকে আর বোকা বানাবেন না, মানুষ এখন সবই বোঝে। সৎ মানুষের মতো কাজ করুন, দেখবেন আপনাদের মরার পরও মানুষ স্বরণ রাখবে….. এনালগ হয়রানি বন্ধ হওয়ার পর এখন e-হয়রানি শুরু করেছেন তাই না???

নেক্সট পোস্টে লিখবো ই-পাসপোর্ট এর ক্ষেত্রে ই-ভেরিফিকেশন আরো সহজিকরণ কিভাবে সম্ভব।আপনার কোন মতামত বা সুচিন্তা এখানে জানাতে ভুলবেন না প্লিজ। আমার, আপনার চিন্তা হয়তো একটা সময় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সুচিন্তাশীল অফিসারের নজরে আসবে তখন হয়তো এসব বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

লেখাঃ শেখ আব্দুর রহমান

ফেসবুকঃ facebook.com/bdindi17

ভ্রমণ হবে সহজে

"পরবর্তীতে পড়ার জন্য শেয়ার করে রাখুন"