ট্রেন আসতে দেরি হওয়াতে দুজনের সময় যেন কাটছে না, গভীর রাতে দুজনে ফাঁকা রাস্তায় এগিয়ে যাচ্ছি।

ট্রেন আসার কথা সন্ধ্যা ৭ টায় অথচ অপেক্ষা করতে করতে ট্রেন আসলো রাত ১১ টার কিছু সময় আগে। দ্রুত D1 বগিতে উঠে নিজেদের সিট খুঁজতে থাকি কিন্তু সেখানে দেখি গভীর নিদ্রায় পুরো বেঞ্চ জুড়ে এক অল্প বয়সী ছেলে নাক ডেকে শান্তির ঘুম ঘুমাচ্ছে। মন থেকে আর সায় দিল না তার ঘুম ভাংগিয়ে নিজেদের সিটে বসতে, তাই অন্য কোথাও সিট ফাঁকা আছে কিনা দেখতে থাকি।

আমি আর রায়হান কয়েকটা ফাঁকা সিট খুঁজে সেখানে বসে পড়ি তারপর মোবাইলের চার্জ দেওয়ার জন্য চার্জিং পয়েন্ট খুঁজতে থাকি। এক ভদ্র মহিলার পাশে চার্জিং পয়েন্ট পেয়ে গেলাম, অনুমতি নিয়ে সেখানে বসে ২০ মিনিট ধরে মোবাইলের শক্তি জোগালাম।

এদিকে ট্রেন চিত্তরগড় স্টেশন থেকে ছেড়ে দিয়েছে, ধীরে ধীরে এগিয়ে চলছে। চিত্তরগড় থেকে উয়পুরের দিকে যাচ্ছি, মাত্র ৭৫ কিমি দুরে এবং ৩ ঘন্টার পথ অথচ ট্রেন দেরি করে আসার কারণে রাত ১ টার দিকে উদয়পুর স্টেশনে পৌঁছে গেলাম। ট্রেন থেকে নেমে দ্রুত ওয়েটিং রুম খুঁজে একটু ফ্রেশ হয়ে নিলাম।

ওয়েটিং রুম খুব পরিস্কার পরিচ্ছন্ন যা রেল স্টেশনে সচরাচর দেখা যায়না অথচ উদয়পুর রেল স্টেশন এসে সেই ধারণা পাল্টে গেলো। তাছাড়া আশেপাশে অনেক পরিচ্ছন্নতা দেখতে পেলাম, একদম পরিপাটি একটা স্টেশন। ফ্রেশ হয়ে স্টেশনের দোতলা গিয়ে রিটায়ারিং রুম খোঁজার চেষ্টা করছিলাম। অসংখ্য রুম আছে কিন্তু কোন অফিসারকে খুঁজে পেলাম না, নিচে গিয়েও দেখি কোন অফিসার নেই।

পরে জানতে পারি যে, উদয়পুর থেকে পরবর্তী ট্রেন ভোর ৫ টার পর আসবে অর্থাৎ ভোরের দিকে, অফিসাররা সম্ভবত ঘুমে আচ্ছান্ন, যদিও সিকিউরিটি গার্ড ছিল কিন্তু তারাতো আর রুম দিতে পারবে না।

আমরা দুজন স্টেশনের বাইরে বের হলাম আর কিছু অটোওয়ালা জিজ্ঞেস করছে কোথায় যাবো, রুম লাগবে কিনা। এতো রাতে নতুন জায়গা, হুট করে অটোতে উঠে কোথাও যাওয়া বোকামি। তাই তাদেরকে না করে দিলাম, নিজেরাই আশেপাশে ম্যানেজ করে নিবো। যদিও তারা ৩০০ রুপিতে রুম দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল কিন্তু সাহসে কুলায়নি বলে তাদেরকে না করে দিলাম।

রেল স্টেশন থেকে বের হয়ে ডান দিকে তাকিয়ে দেখি বড় একটি হোটেল, ভিতরে প্রবেশ করে জানতে পারলাম যে রুম ফাঁকা নেই, তাছাড়া হোটেলের পরিবেশ দেখে মনে হলো হোটেল ভাড়া ৩০০০ রুপির উপরে। এই হোটেলটি মূলত একদম স্টেশনের এরিয়ার মধ্যে অবস্থিত। যাইহোক দুজন স্টেশনের মেইন গেট দিয়ে বের হয়ে রাস্তা পার হলাম, তারপর বা দিকে হাটতে থাকি। কিছুটা ভয়ও লাগছে কিন্তু প্রচন্ড ক্লান্ত এবং ঘুম আসছে তাই রুমের বেশ প্রয়োজন। কিছু সময় হেটে একটা হোটেল পেয়ে গেলাম স্টেশনের একদম কাছেই বলা যায়।

হোটেলের নীচ তলাতে ম্যানেজার, হোটেলবয় ঘুমাচ্ছিল তাই কাচের দরজায় নক দিতেই জেগে উঠলো আর বললাম যে রাত টুকু থাকার জন্য রুম লাগবে। উপরে গিয়ে রুম দেখলাম, বেশ বড়, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এবং টয়লেটও বেশ বড় আর পরিস্কার। রুম দেখে নিচে নেমে ভাড়া নিয়ে দর কষাকষি শুরু করলাম, অবশেষে ১২০০ রুপি থেকে ৯০০ রুপিতে রাজি করিয়ে দ্রুত রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ি, আহ! শান্তির ঘুম।

সকাল ৮ টার দিকে ঘুম ভাঙলো। রায়হান দ্রুত গোসল শেষ করে রেডি হতে লাগলো আর আমিও গরম পানি পেয়ে আরাম করে গোসলটা সেরেই নিলাম। রেডি হয়ে ব্যাগ গুছিয়ে নিচে নামি, ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি প্রায় ১০ টা বেজে গেছে, হোটেল থেকে বের হয়ে তখন দেখতে পেলাম হোটেলের নাম #Hotel Seema-হোটেল সিমা।
যাইহোক হোটেল থেকে বের হয়ে সোজা রেল স্টেশনের দিকে এগিয়ে গিয়ে Cloack (লকার) রুমে আমাদের দুজনের ব্যাগ দ্রুত রেখে ব্যাগ স্লিপ নিয়ে স্টেশনের বাইরে মেইন রোডে আসি।

আবারো হোটেলের দিক বরাবর যেতে থাকি, দুজন যে কোন দিকে যাবো সেটাই সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছিলো।একটা সময় উবারের আ্যপ্স বের করে উদয়পুর সিটি প্যালেস লিখে দেওয়ার সাথে সাথে ৪৯ রুপি ভাড়া দেখালো, ৩ মিনিট এর মধ্যে উবারের চালক এসে হাজির এবং আমরা উবারে উঠে সিটি প্যালেসের দিকে যেতে থাকি। সিটি প্যালেস হচ্ছে উদয়পুর সিটির মূল আকর্ষণ।

উবারে ভাড়া খুবই কম সাথে এসিতো আছে অথচ টেম্পুতে ৮০/৯০ রুপি চেয়ে থাকে। ঠিক ১০ মিনিট পর সিটি প্যালেসের গেটে নামিয়ে দিলো। আমরা ভিতরে প্রবেশ করে দেখি প্রচুর ট্যুরিস্টদের আনাগোনা, এমনকি বিদেশীদের ভীড় বেশি, যদিও আমরা বাংলাদেশি তবুও ভারতীয়দের কাছে আমরা বিদেশী নয় বললেই চলে।

আমরা সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে প্যালেসে প্রবেশ করার এন্ট্রি টিকিট নিলাম ৩০ রুপি করে সেই সাথে সিটি প্যালেস #মিউজিয়াম দেখার জন্য ৩০০ রুপি করে দুটি টিকিট করে ভিতরের দিকে হেটে যেতে থাকি। রাস্তার দু”ধারে অসংখ্য ফুলের গাছ, একটু পর আরো একটা গেটের ভিতর দিয়ে প্রবেশ করলাম। সামনে যাচ্ছি আর ডান দিকের বিশাল উচু বিল্ডিং এর দিকে তাকাচ্ছি আর ভাবছি ৪০০ বছর আগের তৈরি করা ভবন এখনো দেখতে আগের মতোই সেই সাথে ভবন এর নিঁখুত কারুকার্য। সেই সময়কার ইঞ্জিনিয়ার এবং কারিগররা ছিলো দুনিয়াখ্যাত, এতে কোন সন্দেহ নেই।

মূলত সিসোদিয়া রাজপুত পরিবারের রাজা মহারানা উদয় সিং (২) রাজস্থানের রাজধানী চিত্তরগড়কে স্থানান্তর করে নতুন সিটি #উদয়পুরকে রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলেন এবং উদয়পুর সিটির পূর্ব দিকে পাহাড়ের গা ঘেঁষে অসাধারণ এক লেক অবস্থিত, নাম তার লেক পিচোলা আর এই লেকের পাশেই অবস্থিত “উদয়পুর সিটি প্যালেস” মিউজিয়াম। এটির কাজ শুরু হয়েছিল ১৫৫৩ সালে এবং শেষ হয়েছিল কত সালে তা অজানা, তবে ১৬০০ শতকের আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। এটি সম্পূর্ণ সাদা মার্বেল দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল।

আমরা যখন লেক পিচোলার পাশ দিয়ে হাটছিলাম সে এক অদ্ভুত রকমের শীতল হাওয়া কানে মুখে এসে বাড়ি খাচ্ছিলো যা লেখাতে বোঝানো কঠিন, পাহাড়ের গা ঘেষে উফফ! মনের মধ্যে অন্য রকম এক ভালো লাগা শুরু হচ্ছিলো।

লেকের ঠিক মাঝ বরাবর ডান দিকে ধব ধবে সাদা বিল্ডিং দেখতে পেলাম যা সবসময় পানির মধ্যে নিমজ্জিত থাকে, সাদা পাথরের তৈরি। এটিকেই লেক পিচোলা বিল্ডিং বলা হয়ে থাকে। মূলত পিচোলি নামক গ্রামের মধ্যে অবস্থিত হওয়ার কারণে এর নামকরণ লেক পিচোলা বলা হয়।

এই লেকের ভিতর দুটি দ্বীপ আছে যেমন Jag Niwas & Jag Mandir যা লেকের মধ্যে অবস্থিত, লেকের মধ্যে ঘোরাঘুরি করার জন্য স্পিট বোট বা ছোট নৌকা আছে। এই নৌকা দিয়ে ঘুরতে পারবেন, প্রতিজন ৫০০ রুপি করে সকাল থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত আবার ২ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত প্রতিজন ৮৫০ রুপি করে অর্থাৎ এই সময়ে রেট বেশি থাকে।

দুজন সামনের দিকে হেটে হেটে পাহাড়ের বিশুদ্ধ বাতাস গায়ে লাগিয়ে একটু উপরের।দিকে যেতে থাকি। একটু পর টিকিট দেখিয়ে মিউজিয়াম এর ভিতর প্রবেশ করি। ভিতরে প্রবেশ করেই দেখতে পেলাম তখনকার সময়ের কিছু স্টিল ফটো যা সেই সময়কার শাসকদের।

হেটে হেটে সামনে গিয়ে আরো একটি গেট পার হলাম এবং গেটের ডাক কোনায় টিকিট কাউন্টার, আপিনি চাইলে ওখান থেকেও বিভিন্ন টিকিট নিতে পারবেন যেমন লেক পিচোলাতে যাওয়ার বোটিং টিকিট বা প্যাকেজ সিস্টেমের খাওয়া দাওয়া সহ টিকিট তবে রাজস্থানি খাওয়া দাওয়া সহ প্রতিজন প্রায় ৩০০০ রুপি+ যা খুব বেশি মনে হয় তবুও যাদের দরকার তারা নিতে পারেন।

যে কেউ গাইডার হায়ার করতে পারবে কাউন্টার থেকে অর্থাৎ ৫০০ রুপি করে (৪/৫ জন) গ্রুপ হলে, বেশি সংখ্যক হলে ৭০০ রুপি এরকম ভাবে রুপির পরিমাণ দেওয়া আছে কাউন্টারের লিস্টে অথবা যে কেউ অডিও রেকর্ডার ভাড়া করতে পারবেন ১৬০ রুপি দিয়ে যা কানে দিয়ে বাংলা ভাষা, হিন্দি বা ইংরেজি শুনতে পারবেন। তবে অডিও রেকর্ডার বিদেশীদের কানে বেশি দেখলাম।

একটু হেটে সামনে যেতেই হাতের ডান দিকে একটি রেস্টুরেন্ট যেখানে অনেকে বসে পিজা, মদ গিলছে। আমি আর রায়হান ভিতরে প্রবেশ করে খাওয়ার মতো কিছু খুজচ্ছিলাম কিন্তু পিজার দাম ৭৫০ রুপি, বার্গার ৩৫০ রুপি দেখে চোখ ঝিম ঝিম করা শুরু করলো কারণ দুজনের বাজেটের বাইরে চলে যাচ্ছে তাছাড়া চিজ দিয়ে পিজা আমার আর রায়হানের মোটেও ভালো লাগে না, বের হয়ে বা দিকের বড় গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলাম।

ভিতরে প্রবেশ করে ডান দিকে দেওয়ালের সাথে বড় করে উদায়পুর।সিটি প্যালেস ও শাসকদের জীবনকাল বিস্তারিতভাবে ইংরেজিতে লেখা দেখলাম। সেখানে ৫/৬ মিনিট সময় ব্যয় করে সামনে এগিয়ে যেতে দেখি ৮/১০ টা বিশালাকার ঘোড়া এবং কুচকুচে কালো, এরকম টাইপের ঘোড়া আগে কখনো দেখিনি মনে হলো লম্বা প্রায় ৮ ফুট আর উচ্চতা ৬ ফুটের উপরে।

এই ঘোড়া গুলোকে মূলত রাজস্থানি ঘোড়া বলা হয় আর পূর্বে রাজস্থানের শাসকরা রাজকীয়ভাবে ঘোড়ায় চড়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করতো। ঘোড়াগুলো দেখার পর ডান্দিকের সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে সিকিউরিটি গার্ডকে এন্ট্রি টিকিট দেখিয়ে সিরিয়াল ধরে ৩য় তলাতে গেলাম আর ঐতিহ্যবাহী কিছু ব্যক্তির মূর্তির নিদর্শন দেখলাম। এছাড়া তখনকার সময়ের ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম দেখলাম, কিভাবে বিবাহ দেওয়া হতো সেই ঘর এবং সাজসজ্জা, বিশাল দরগা যেখানে প্রজারা সমবেত হতো এবং বিচারকাজ শুরু হতো।

আর একটু সামনে হেটে রান্নাঘর দেখলাম যেখানে বিশাল ডিস, কড়াই, চুলা ব্যবহার করা হতো, দেখছি আর অবাক হচ্ছি এই ভেবে যে ৪০০ বছর আগের ব্যবহৃত জিনিসপত্র কেমন ছিল। আরো উপরের দিকে গিয়ে বিশাল ফাকা জায়গা দেখতে পেলাম যেখানে কয়েকটা বড় গাছ, সুন্দর ডিজাইনের বেঞ্চ বিদ্যমান। সত্যি দেখে অবাক হয়েছি কারণ ৩ তলার উপরে এরকম পরিবেশ যা অবাক করার মতো।

ওখানের বারান্দায় দাড়িয়ে পুরো উদায়পুর সিটিকে দেখতে পেলাম। একদম ছোট ছোট বিল্ডিং দেখা যাচ্ছে এবং পুরো শহর মনে হচ্ছে হাতের মুঠোয়। কিছু সময় ওখানে কাটিয়ে আরো সামনের দিকে যেতে থাকি আর অসংখ্য বাদ্যযন্ত্র সুসজ্জিত করে রাখা রুম দেখতে পেলাম। তখনকার সময়ের পিয়ানো কেমন ছিল তা দেখলাম এমনকি হারমনিয়াম, তবলা, গিটার ইত্যাদি।

এভাবে দেখতে দেখতে পুরো ৪ ঘন্টার মতো পার হয়ে গেছে কিন্তু বুঝতেই পারিনি। এদিকে প্রচন্ড ক্ষুদা লাগছে কিন্তু এর ভিতরে খাবারের দাম অনেক।মনে।হওয়াতে আমরা।বাইরে।বের হওয়ার জন্য নিচে নামি।আর গেট দিয়ে বের হয়ে হাটতে থাকি। প্রায় ১০ মিনিট হাটার পর রাস্তার ধারে স্ট্রিট ফুডের কয়েকটা দোকান পেলাম, বেশ ভীড় আর স্থানীয় খাবার হিসেবে যথেষ্ট পপুলার।

সেজন্য দুজনে রাস্তার পাশে চেয়ার পেতে বসে গেলাম আর ৮০ রুপি নিয়ে পাউরুটি দিয়ে বানানো, মেয়োনেস, ছোলার ডাল আর কি কি যেন দিলো, ভালোই স্বাদ লাগলো। ওখান থেকে খেয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে একটি গোল চত্তর দেখলাম, সেখানে প্রচুর ভালো মানের থাকার হোটেল, কিছু রেস্টুরেন্ট দেখতে পেলাম। ভালো দেখে একটা রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে দোতলাতে চলে গেলাম আর ঢুকেই দেখি মানুষের প্রচন্ড ভীড়।

রেস্টুরেন্টটি Vishnupriya Hotel এর বিপরীত দিকে অবস্থিt এবং #Padmini Restaurant বেশ পরিচিত। আনুমানিক ৩৭ বছর এই রেস্টুরেন্টের বয়স তাহলে বুঝতেই পারছেন, কতটা জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট।

কোনরকম একটা টেবিল ফাকা ছিল সেখানে বসে আমি আর রায়হান মেনু কার্ড দেখে কি খাবো সেটাই ভেবে পাচ্ছিনা কারণ ম্যাক্সিমাম রাজস্থানি খাবার। অনেক গবেষণা করে মনে হলো #ডিলাক্স থালি অর্ডার করলে বেটার হবে, যদিও স্ট্যান্ডার্ড থালি ছিল, দাম ২৪০ রুপি, একটা আইটেম কম ছিল।

তাই #ডিলাক্স থালি নেওয়ার জন্য ঠিক করলাম, দাম সাধ্যের মধ্যে ২৮০ রুপি, একটা অর্ডার করলাম এবং ৫ মিনিটের মধ্যে ডিলাক্স থালি চলে এলো, ভাগ্যিস দুইটা অর্ডার করি নাই কারণ খেতে পারতাম না।

মূলত এই ডিলাক্স থালিতে অনেক আইটের খাবার আসলো যেমন Dal Tadka, Jeera Rice, Raita, Roasted Papot, Pickle, Onion peach, Butter Tandoori 4 pieces, Gulab Jamoon 2 pieces এসব দেখে কিছুটা ভালো লাগলো এবং পরে ওয়েটার থেকে তথ্য নিলাম যে এটি একটি জনপ্রিয় আইটেম। মোটামুটি দুজন মিলে জামার হাতা গুছিয়ে কব্জি ডুবিয়ে খাওয়া শুরু করলাম।

উম! বেশ মজাই লাগলো, সবশেষে গুলাম জাম আরো বেশি টেস্টি লাগলো অর্থাৎ আমার কাছে কালোজাম টাইপের মনে হলো কিন্তু উদায়পুরের বিখ্যাত মিঠাই হিসেবে পরিচিত। একবার হলেও স্থানীয় খাবার এর টেস্ট নেওয়া উচিত তাহলে ওখানকার অনেক কিছু আপনার জানা হয়ে যাবে।

ওখান থেকে খাওয়া দাওয়া করে বাইরে বের হয়ে এক লিটার পানি।কিনে।খেতে খেতে উবারে নক দিলাম। ঠিক দুপুর ২ টা ৪০ বাজে, উবার এসে হাজির, দ্রুত রেল স্টেশন চলে গেলাম, ভাড়া মাত্র ৪৯ রুপি ছিল। স্টেশনের ক্লক রুম (লকার) থেকে ৩০ রুপি দিয়ে দুজনের ব্যাগ নিয়ে বাইরে বেরিয়ে যায় তখন প্রায় বিকেল ৩ টা ২০ বাজে। আবারো উবার হায়ার করে প্রাইভেট বাস স্ট্যান্ডের ওখানে নেমে যায় অর্থাৎ স্টেশন থেকে মাত্র ২ কিমি দূরে, মেইন রোডের পাশে মূলত এসব কাউন্টার।

কাউন্টারে গিয়ে আরো বিপদে পড়ে গেলাম কারণ লাস্ট বাস ৩ টায় ছেড়ে গেছে আর কোন প্রাইভেট বাস মাউন্ট আবুর দিকে যাবে না। আগামিকাল সকাল ৮ টায় প্রথম বাস যাবে। এদিকে কোন ভাবেই আজকে উদায়পুর থাকা সম্ভব নয় কারণ নেক্সট দিন যোধপুর ঘুরবো, সেখান থেকে পরের দিন দিল্লি যাওয়ার ট্রেন।টিকিট বুকিং করা আছে।

যাইহোক কাউন্টার থেকে বের হয়ে স্থানীয় একজনের থেকে পুরাতন বাস স্ট্যান্ড কতদূর শুনে নিলাম। যেখানে দাড়িয়ে সেখান থেকে সামনে কয়েক কদম হেটে রাস্তা পার হলেই বাস স্ট্যান্ড। আমরা হেটে দ্রুত সেখানে গিয়ে জানতে পারি #মাউন্ট আবু যাওয়ার ডিরেক্ট বাস এখন আর নেই তবে বিকেল ৫ টা ৩০ মিনিটে একটি বাস ছাড়ে যা মাউন্ট আবু রোড পর্যন্ত যাতায়াত করে।

মাউন্ট আবু উদায়পুর সিটি থেকে ১৮০ কিমি দূরে অবস্থিত। অসাধারণ পাহাড়ী ভিউ, এখানে পাহাড় কেটে প্রায় ১২০ কিমি পথ ৪ লেনের করা হয়েছে, না দেখলে বিশ্বাস হবে না, কতটা সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে। দ্রুত ১৬৫ রুপি করে দুটি টিকিট করে বাসে উঠে পড়ি এবং নতুন এক গন্তব্যের দিকে ছুটে চলছি ———

পরবর্তী ভ্রমণ পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন —-

জরুরী প্রয়োজনেঃ ০১৭১৭-১৮৫৩৬০

(Whatsup/imo)

ভ্রমণ হবে সহজে

"পরবর্তীতে পড়ার জন্য শেয়ার করে রাখুন"