ভেলরের CMC হাসপাতালে একা যেতে ভয় পাচ্ছেন? আমাদের সঠিক গাইডলাইন ভালো করে পড়ুন।এই পোস্টে সব কিছুর সমাধান দেওয়া হয়েছে।

ভেলর সিটি মূলত চিকিৎসার জন্য বিখ্যাত যা এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম যেমন CMC HOSPITAL (Christian Medical College), NARAYAN HEALTH CARE এছাড়াও আরো কিছু হাসপাতাল আছে তবে CMC হাসপাতাল ই বেশি জনপ্রিয় এবং বাংলাদেশ ও কলকাতার ৮০% মানুষ ভেলরের এই হাসপাতালে ডা:দেখানোর উদ্যেশে ভেলর সিটি যেয়ে থাকে।

এই হাসপাতাল টি ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত এবং হাসপাতালের নিয়ম কানুন চরম কড়া আর পরিবেশও যথেষ্ট ভালো। প্রথমদিকে #নাক, কান, গলার জন্য এই হাসপাতাল বিখ্যাত ছিল কিন্তু ধীরে ধীরে হাসপাতালের চিকিৎসা পদ্ধতি রোগীদের কাছে বেশ ভালো লাগতে শুরু করে আর বিভিন্ন জটিল রোগের সমাধাণও হতে থাকে। আর সেজন্য এই হাসপাতালের সুনাম সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে সেই সাথে বাংলাদেশের মানুষ এর কাছেও পরিচিতি পেতে থাকে।

এই হাসপাতালে এখন সমস্ত রোগের চিকিৎসা করা হয়ে থাকে যেমন নাক, কান, গলা, দাত, ক্যান্সার, মেডিসিন, গাইনি, মেন্টাল, শিশু ডিপার্টমেন্ট, অরথোপেডিক্স, সার্জন, পাইলস, ডারমাটোলজি, সাইকোলজি, হেপাটোলজি, নেফ্রোলজি, প্রেগন্যান্সি ডিপার্টমেন্ট, হার্ট ডিপার্টমেন্ট এবং নাম না জানা আরো বহু রোগের চিকিৎসা হয়ে থাকে। মূলত চিকিৎসা খরচ একটু কম কিন্তু চিকিৎসারর মান অনেক ভালো সেজন্যই এই হাসপাতালে চরম ভীড় থাকে।

অনেকে এই হাসপাতাল কে চিকিৎসার কারখানা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কেননা চিকিৎসার ম্যাক্সিমাম ডিপার্টমেন্ট এখানে বিদ্যমান।

ভেলর সিটিকে (Vellore city) মূলত অনেকে মাদ্রাজ হিসেবে মনে করে থাকে কিন্তু মাদ্রাজ বলতে বর্তমানে চেন্নাই সিটিকে বলা হয় অর্থাৎ ব্রিটিশ আমলে মাদ্রাজ নামকরণ করা হয়ে থাকে কিন্তু ১৯৮০ সালের পরে (মাদ্রাজকে) এটিকে চেন্নাই সিটি হিসেবে নামকরণ করা হয় আর এখন বলা হয় পুরাতন মাদ্রাজ। চেন্নাই সিটি হচ্ছে তামিল নাড়ু রাজ্যের রাজধানী আর ভেলর হচ্ছে একটি জেলা শহর। তামিল রাজ্য ৩০ টি জেলা নিয়ে গঠিত তার মধ্যে ভেলর সিটি একটি জেলা। তামিল রাজ্যের আয়তন প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার বর্গকিমি এরিয়া যা প্রায় বাংলাদেশের কাছাকাছি আয়তন। আর তামিল নাড়ুকে বলা বলা সাউথ বা দক্ষিন ইন্ডিয়া। সাউথ ইন্ডিয়া খুবই সুন্দর সারা ইন্ডিয়ার মধ্যে।

আর ভেলর হচ্ছে এই চেন্নাই সিটি / মাদ্রাজ থেকে ১৪৫ কি.মি. দূরে অবস্থিত। এই হাসপাতালকে কেন্দ্র করে শত শত হোটেল, খাবারের হোটেল, রেস্টুরেন্ট, শপিংমল ও আরো অনেক কিছু গড়ে উঠেছে।

এখন আসুন কিভাবে ভেলরে যাবেন আর কোথায় থাকবেন এবং কিভাবে ডা:আ্যপ নিবেন বিস্তারিত তুলে ধরছি:
——————————————————-

আমি কিভাবে ঢাকা থেকে ভেলরে যাবো?

উত্তর:
ভেলরে যাওয়ার ৪ টি মাধ্যম আছে আপনি যে কোন একটি ব্যবহার করে যেতে পারেন।

ঢাকা টু কলকাতা টু ভেলর বাই বাস ও ট্রেন
ঢাকা টু কলকাতা টু ভেলর বাই ট্রেন ও ট্রেন
ঢাকা টু কলকাতা টু ভেলর বাই ট্রেন ও এয়ার
ঢাকা টু কলকাতা টু ভেলর বাই ফুল এয়ার+ ট্রেন

**প্রথম মাধ্যমঃ
১। ঢাকা টু কলকাতা সরাসরি ট্রেনে করে যেতে হবে তারপর কলকাতা (চিতপুর) স্টেশনে নেমে একটা ট্যাক্সি বা অটো ভাড়া করে হাওড়া রেল স্টেশনে যেতে হবে। ট্যাক্সিতে ১০০/১২০ রুপি ভাড়া নিবে আর বাসে গেলে ১০ রুপি নিবে আর সময় লাগবে ২৫/৩০ মিনিট।

হাওড়া স্টেশন থেকে সরাসরি ভেলরে যাওয়ার ট্রেন আছে যেমন Humsafar express এটি প্রতি মংগলবার দুপুর ১২ টা ৪০ মিনিটে হাওড়া স্টেশন থেকে ছাড়ে আর ভেলর অর্থাৎ কাটপাডি স্টেশনে পৌঁছায় পরের দিন বিকেল ৪ টা ৩৫ মিনিটে বা ৫ টার দিকে। আপনাকে ভেলরের কাটপাডি স্টেশনেই নামতে হবে কারণ ভেলরে এই একটি মাত্র রেল স্টেশন। আর ম্যাক্সিমাম ট্রেন। ভেলর হয়েই বেংগালুর পর্যন্ত যেয়ে থাকে। আর এই ট্রেনটি ফুল এসি ট্রেন। কোন নন এসি সিট নেই। আর একটি ট্রেন ছাড়ে রাত ৮ টা ৩৫ মিনিটে যা YPR EXPRESS ণামে পরিচিত।

আচ্ছা কলকাতা থেকে ট্রেন ভাড়া কেমন?

উত্তর: এসি ট্রেনের ভাড়া ২৯০০/৩০০০ টাকা করে প্রতিজন যদি 3A tier এ সিট নিতে চান আর 2A tier এর ভি আই পি প্রতি সিটের ভাড়া ৪০০০/৪২০০ টাকার মতো এবং নন এসি স্লিপারের ভাড়া ১৩০০/১৪০০/১৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে।

আচ্ছা কলকাতা থেকে ভেলরে কতগুলো ট্রেন ছাড়ে?

উত্তর: কলকাতার হাওড়া স্টেশন থেকে ভেলরে যাওয়ার ট্রেন ছাড়ে রেগুলার কম বেশি ২/৩ টি ট্রেন তবে সাপ্তাহিক ট্রেনও আছে ২ টির মতো।

ঢাকা থেকে বেনাপোল কি যাওয়া যাবে?

উত্তর: জি, ঢাকা টু বেনাপোল যেতে পারবেন ট্রেনে করে। গতবছর বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেন চালু হয়েছে। ঢাকা কমলাপুর থেকে রাত ১১ টা ১৫ মিনিটে ছাড়ে এবং বেনাপোল এসে পৌঁছায় পরের দিন সকাল ৯ টার মধ্যে। এই ট্রেনে ৩ ধরনের সিট থাকে যেমন নন এসি চেয়ার কোচ, এসি চেয়ার কোচ ও স্লিপার সিট। ট্রেন টিকিট দরকার হলে আমরা সাহায্য করতে পারবো।

ট্রেনে যেতে কেমন সময় লাগতে পারে?

উত্তর: মিনিমাম ২৭ ঘণ্টা সময় লাগে তবে ৩০ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাবেন নিশ্চিত।

কখন কখন ট্রেন ছাড়ে বলবেন কি?

উত্তর: নিশ্চয়ই বলবো, আপনাদের জন্যই তো এতো তথ্য লিখে শেয়ার করে শান্তি পেয়ে থাকি। লেখা আমার নেশা।

ট্রেনের নাম: Humsafar exp
ছাড়ার সময়: দুপুর ১২:৪০ মিনিটে
কিবার ছাড়ে: প্রতি মংগলবার

ট্রেনের নাম: HOWRA YPR EXP
ছাড়ার সময়: রাত ৮ টা ২০ মিনিট
কিবার ছাড়ে: প্রতিদিন
পৌছাবে: রাত ১ টা ৪০ মিনিটে

ট্রেনের নাম: HWH PDY EXP
ছাড়ার সময়: রাত ১১:৩০ মিনিটে
কিবার ছাড়ে: প্রতি রবিবার
ট্রেন পৌঁছাবে: রাত ৩ টা ৪০ মিনিটে

কাটপাডি স্টেশন নেমে কিভাবে যাবো ভেলর?

উত্তর: আরে ভাই, ভেলর তো চলেই আসছেন। কাটিপাডিই ভেলর। স্টেশন নেমে একটা অটো বা ট্যাক্সি ভাড়া করে সরাসরি সি এম সির হাসপাতালের গেটে যেতে ২০/২৫ মিনিট সময় লাগে।

অহ আচ্ছা স্টেশন থেকে ভাড়া কেমন নিবে?

উত্তর: ট্যাক্সিতে গেলে ১৫০/২০০ রুপি নিবে আর ৪ জন পর্যন্ত যেতে পারবেন। আর অটো সিএনজি তে গেলে ৮০/১০০ রুপি ভাড়া নিবে আর ৩ জনের বেশি নয় একটা অটোতে। তবে একদম নতুন লোক হলে একটু বেশিও নিতে পারে।

চিনবো কি করে হাসপাতাল?

উত্তর: অটো বা ট্যাক্সি ওয়ালাকে বললেই একদম মেইন গেটে নামিয়ে দিবে তাই নো টেনশন।

হাওড়া স্টেশন থেকে কিভাবে ট্রেন খুঁজে পাবো?

উত্তর: আপনি হাওড়া স্টেশনে যাবেন তারপর চোখ দিয়ে উপরের দিকে ডিজিটাল ডিসপ্লে দেখতে পারবেন আর ওখানে লেখা থাকবে ট্রেনের নাম, নাম্বার এবং কখন ছাড়বে তার সময়। অথবা স্টেশনে পুলিশ বক্স আছে তাদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেই জানিয়ে দিবে। তবে ট্রেন ছাড়ার ৪০/৪৫ মিনিট আগে ছাড়া জানতে পারবেন না যে কোন প্লাটফর্ম থেকে ছাড়বে।

কেন হাওড়া স্টেশনে কি অনেক প্লাটফর্ম?

উত্তর: জি, ২৩ টি প্লাটফর্ম হাওড়া স্টেশনে অর্থাৎ এক সাথে ২৩ টি ট্রেন আলাদা আলাদা ভাবে ছেড়ে যেতে পারে সেই ব্যবস্থা করা আছে। ভয়ের কিছু নেই, যতবড় প্লাটফর্ম হোক না কেন, আপনি সহজে খুঁজে পাবেন। স্টেশনের হেল্প ডেস্ক পাবেন, সেখানে জিজ্ঞেস করলে দেখিয়ে দিবে বা কোন পুলিশের সহায়তা নিবেন অথবা আমাদেরকে স্টেশনে পৌঁছে ফোন করবেন, আমরা সঠিক গাইডলাইন দিয়ে দিবো।

আচ্ছা, ভেলর পৌঁছে প্রথমে কোথায় যাবো?

উত্তরঃ ভেলরের কাটপাডি স্টেশনে নেমে যাবেন তারপর অটো নিয়ে সি এম সি হাসপাতালের গেটে যাবেন তারপর হাসপাতালের বিপরীত দিকে বহু হোটেল আছে, আপনার চাহিদা অনুযায়ী হোটেলে উঠবেন। রাস্তার পাশের হোটেল ভাড়া ৮০০/৯০০ রুপি প্রতিদিন। একটু ভিতরের দিকে গেলে ৩০০/৩৫০ রুপিতে পাবেন আবার ৪৫০/৫০০ রুপির মধ্যেও পাবেন। যারা কাছাকাছি ও কমের মধ্যে থাকতে চান তারা New city লজ এ থাকতে পারেন। লিফট সিস্টেম এবং ভাড়া ৪৫০ থেকে ৫০০ রুপির মধ্যে পাবেন। এক রুমে ২ জন আবার ৩ জনও থাকতে পারবেন আবার ৪ জন থাকার ব্যবস্থাও আছে।

আচ্ছা, হোটেলে তো উঠলাম কিন্তু এখন কি করবো?

উত্তরঃ হোটেলে উঠে ফ্রেশ হয়ে আশেপাশে ঘুরুন। পরের দিন সকাল ৬ টার মধ্যে সি এম সি হাসপাতালের ভিতরে গিয়ে 900B বিল্ডিং এ যাবেন। এটি সি এম সি হাসপাতালের আউটগেটে অবস্থিত। যে কোন সিকিউরিটি গার্ডকে জিজ্ঞেস করলে রাস্তা দেখিয়ে দিবে।

সকালবেলা রুম থেকে বের হওয়ার সময় মনে করে প্রত্যেকের পাসপোর্ট বই নিবেন, সাথে হোটেলের একটি ভিজিটিং কার্ড এবং আপনার অগ্রীম ডাঃ আ্যপয়েন্টমেন্ট কপি নিতে নিবেন।

কাছাকাছি গিয়ে বিল্ডিং গায়ে 900B লেখা আছে। ওই বিল্ডিং এর নিচে অর্থাৎ আন্ডারগ্রাউন্ডে অফিস আছে সেখানে গিয়ে আপনার ডাঃ আ্যপ কপি দেখিয়ে অফিসারের কাছ থেকে সিরিয়াল টোকেন নিবেন। আপনার সিরিয়াল অনুযায়ী এন্ট্রি করে নিতে হবে।

এন্ট্রি হয়ে গেলে আপনাকে আরো একটি টোকেন দিবে। সেই টোকেন নিয়ে উপরে গিয়ে সিকিউরিটি গার্ডকে টোকেন ও পাসপোর্ট দেখিয়ে ভিতরে প্রবেশ করুন এবং সিরিয়াল অনুযায়ী অফিসারের সামনে গিয়ে বসুন।

অফিসারকে পাসপোর্ট বই ও ডাঃ আ্যপ কপি দিন। তিনি পিসিতে লগিন করে চেক করে আবারো এন্ট্রি কনফার্ম করে আপনাকে ভেরিফিকেশন ফর্ম দিবে। যদি ৩ টি পাসপোর্ট থাকে তাহলে ৩ টি ফর্ম দিবে আর ২ টি থাকলে দুটি ফর্ম দিবে। এবার আপনার কাজ ৯৯% শেষ। ওখান থেকে বের হয়ে সোজা হোটেলে চলে আসুন।

এবার যে ফর্ম নিয়ে আসছেন সেই ফর্ম ফিলাপ করুন পাসপোর্ট অনুসারে, খুবই সহজ। এবার (পাসপোর্ট + ফর্ম) হোটেল ম্যানেজারের কাছে দিয়ে দিন। ম্যানেজার ভেলর পুলিশ স্টেশন থেকে ভেরিফিকেশন করে এনে দিবে।

আপনার কাজ ১০০% শেষ। এবার ডাক্টার দেখানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে গেছেন। এক্ষেত্রে আপনার ডাক্টার দেখানোর তারিখ যেদিন তার অন্তত ২ দিন বা ১ দিন আগে পৌঁছাবেন। তাহলে সহজে সমস্ত কাজ সহজে শেষ করে রেডি থাকতে পারবেন কারণ প্রচন্ড ভিড় থাকে।

জরুরী প্রয়োজনেঃ ০১৭১৭-১৮৫৩৬০
(Whatsup/imo also)

ভ্রমণ হবে সহজে

"পরবর্তীতে পড়ার জন্য শেয়ার করে রাখুন"