থাইল্যান্ড ভ্রমণ-৩য় পর্ব
পাতায়ার (Pataya) কোথায় ঘুরবেন এবং কিভাবে যাবেন? A to Z গাইডলাইন পড়ুন।

আপনি হয়তো থাইল্যান্ড ঘুরতে যাওয়ার জন্য মনস্থির করেছেন, হয়তোবা প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে ঘুরবেন। অলরেডি আপনার পাসপোর্ট-ভিসা প্রস্তুত।

সবারই প্রথম পছন্দ থাকে ব্যাংককের পাতায়া (Pattaya) সমুদ্র সৈকত ঘুরতে যাবার কিন্তু কিভাবে যাবে, কোথায় উঠবে এবং কেমন খরচ হবে সেটা হয়তো অনেকের অজানা।

পাতায়া সমুদ্র সৈকত হচ্ছে সারা বিশ্বের মধ্যে ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে খুবই জনপ্রিয় একটি সৈকত এবং এখানে বহুদেশ থেকে সময় কাটানোর জন্য ঘুরতে আসে। প্রতি বছর অন্তত ৮ মিলিয়ন ট্যুরিস্ট এই পাতায়া শহরে ঘুরতে আসে।

অনেকে পাতায়া ঘুরতে চাইলেও বিভিন্ন কারণে হয়ে ওঠে না কারণ যাতায়াত, বিভিন্ন স্পটের সময়সূচি, খরচ এসব বিষয়ে জানা থাকলে সেখানে যাওয়ার প্লান করা খুবই সহজ এবং ইকোনমিক হতে পারে।

আমার লেখা পুরো ভ্রমণ আর্টিকেলটি পড়ুন আশা করি নিরাশ হবেন না, তথ্য দিয়ে পোষ্ট টি সাজিয়েছি যাতে আপনার ভ্রমণ হোক আরো সুন্দর এবং নিরাপদ।

কিভাবে ব্যাংকক থেকে পাতায়া যাবেন?

আপনি হয়তো ব্যাংকক এয়ারপোর্ট রিটার্ন এয়ার টিকিট বুকিং করেছেন এবং ব্যাংকক এয়ারপোর্ট নামতে হবে। আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে আপনি কিভাবে পাতায়া যাবেন?

মূলত বিভিন্ন উপায়ে পাতায়া (Pataya) যেতে পারেন যেমন ট্যাক্সিতে, ট্রেনে, বাসে এবং ভ্যানে করে। তবে সহজ পদ্ধতি হচ্ছে ট্যাক্সিতে করে কিন্তু খরচ কিছুটা বেশি হবে যেমন ১৪০০/১৫০০ বাথ নিতে পারে তবুও দামাদামি করে ঠিক করবেন অথবা মিটার বেজড ট্যাক্সিতে উঠতে পারেন।

ট্যাক্সি নিলে আপনাকে একদম হোটেলের নিচে নামিয়ে দিবে যা আপনার জন্য খুবই সহজ এবং ঝামেলাহীন হবে।

২য় সহজ উপায় হচ্ছে আপনি যদি কিছু খরচ বাঁচাতে চান সেক্ষেত্রে বাসে যেতে পারেন কারণ বাস ভাড়া খুবই কম নিবে কিন্তু পাতায়ার বাস স্ট্যান্ড বা আপনার হোটেল লোকেশন এরিয়ার একদম কাছে নামিয়ে দিবে। এসি বাসের ভাড়া ১১১ বাথ থেকে ১৬০ বাথ হয়ে থাকে।

আপনি North Pattaya বাস স্ট্যান্ডে ২ ঘণ্টার কম সময়ে পৌঁছে যাবেন। এই এসি বাস এয়ারপোর্ট থেকে ২ ঘণ্টা পর পর ছাড়ে এবং কাউন্টার এয়ারপোর্টের মধ্যে অবস্থিত।

ধরে নিচ্ছি, আপনার বাসে যেতে ইচ্ছা করছে সেক্ষেত্রে ব্যাংকক এয়ারপোর্ট টু পাতায়ার ৩ টি বাস স্ট্যান্ডে বাস গিয়ে থামে যেমন আপনি Suttle বাসে করে ব্যাংককের Eastern Bus Terminal এ গিয়ে বাসে উঠে পাতায়া যেতে পারেন। আপনার হোটেল এরিয়ার কাছাকাছি নেমে যেতে পারেন। এটি মূলত Ekkamai BTS station এর একদম কাছে।

এয়ারপোর্ট থেকে প্রতি ৩০ মিনিট পর পর বাস ছাড়ে। প্রথম বাস ছাড়ে ভোর ৫ টা ২০ মিনিটে এবং লাস্ট বাস ছাড়ে সকাল ১১ টা ২০ মিনিটে এবং প্রতিজন ভাড়া ১৩০ বাথ, সম্পূর্ণ এসি বাস।

একইভাবে এয়ারপোর্ট থেকে পাতায়ার Northern Bus Terminal এর উদ্দেশ্যে বাস ছাড়ে ভোর ৫ টা ৩০ মিনিটে এবং রাত ৮ টায় এবং ভাড়া একই অর্থাৎ ১৩০ বাথ করে।

অপরদিকে এয়ারপোর্ট এর গ্রাউন্ড ফ্লোরে গিয়ে ৮ নং এক্সিট গেটের কাছেই বাস কাউন্টার পাবেন এবং পাতায়ার Southern Bus টারমিনাল এর উদ্দেশ্যে প্রথম বাস ছাড়ে ভোর ৫ টা ৩০ মিনিটে, ২য় বাস ছাড়ে ৮ টা ৩০ মিনিটে, ৩য় বাস ছাড়ে সকাল ১০ টায়, পরবর্তী বাস ছাড়ে দুপুর ১২ টায়, দুপুর ২ টায়, বিকেল ৪ টায় এবং লাস্ট বাস ছাড়ে সন্ধ্যা ৬ টা ৩০ মিনিটে তবে ভাড়া ১৩০
বাথ।

কিছু কিছু বাসের ভাড়া ১৬০ বাথ এবং ২৫০ বাথও আছে তবে সেটি হাতেগোনা ২/৩ টি ভি আই পি বাস আছে।

বাসে যেতে অন্তত ২ ঘণ্টা লাগবে যেহেতু প্যাসেঞ্জার বিভিন্ন স্থানে নামবে এবং শহরের মধ্যে কিছুটা জ্যাম হলে ২ ঘণ্টার কমে পাতায়া পৌঁছানো সম্ভব নয়।

পাতায়ার কিছু হোটেল এয়ারপোর্ট টু পাতায়া যেতে মিনি ভ্যান অফার করে এবং ভাড়া অন্তত ৪০০/৪৫০ বাথ লাগবে এবং পাতায়া যেতে সময় লাগবে মিনিমাম ৪ ঘণ্টা।

যদি বাসে যাতায়াত করেন সেক্ষেত্রে আপনার সুবিধামতো স্থানে নেমে তারপর টুকটুকি (ইজিবাইক) ভাড়া করে সরাসরি হোটেলে চলে যাবেন, খুবই সহজ। যেহেতু আপনি নতুন তাই টুকটুকিতে প্রতিজন ৪০/৫০ বাথ নিবে।

পাতায়া শহরটি মূলত ব্যাংকক থেকে দক্ষিন-পূর্ব দিকে অবস্থিত এবং এয়ারপোর্ট থেকে প্রায় ১৪৫ কি.মি দূরে অবস্থিত। এই শহরকে কেন্দ্র করে থাইল্যান্ড আজ এতো পরিচিত একটি নাম। সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু এই পাতায়া সী বীচকে কেন্দ্র করে তবে থাইল্যান্ডের ফুকেট এবং ক্রাবিও কোন অংশে কম নয়।

পাতায়ার কোথায় থাকবেন?

পাতায়াতে (Pataya) শত শত হোটেল আছে। আপনি যদি আগে থেকে অনলাইনে বুকিং করে আসেন সেক্ষেত্রে এক্সট্রা খোঁজ করার ঝামেলা নেই আর যদি ঠিক করে না আসেন সেক্ষেত্রে খুঁজে নিতে হবে। নিচে আমি কিছু হোটেলের নাম ও ভাড়া জানিয়ে দিচ্ছি যাতে আপনার জন্য সহজ হয়।

Hotel Serene এটি Walking স্ট্রিট এ পাবেন এবং ডিলাক্স রুমের ভাড়া নিবে ৮০০/৯০০ বাথ এবং ফ্যামিলি রুমের ভাড়া নিবে ১২০০/১৩০০ বাথ।

Mahi Guest house & Restaurant এটি একমদ পাতায়া সী বীচের কাছে। এই হোটেলের মালিক একজন বাংলাদেশী এবং চিপ রেটে পেয়ে যাবেন অর্থাৎ ৬০০ বাথের মধ্যে বেলকনি ছাড়া ডিলাক্স রুম পাবেন এবং বেলকনি সহ ডিলাক্স রুম পাবেন ৮০০ বাথের মধ্যে, মন খুলে বাংলায় কথা বলতে পারবেন। উনার নাম হচ্ছে লিটন। গেস্ট হাউজটি ১৩/৩ গলিতে অবস্থিত।

পাতায়াতে বাংলা খাবার কোথায় পাবো?

যারা বাংলাদেশ থেকে ঘুরতে যায় তারা সাধারণত বাংলা ভাত, মাছ, ডাল, গোস্ত এসব না হলে আবার ক্ষুদা মিটে না, সেজন্য আপনি পাতায়া বীচের কাছেই Mike market আছে, ঠিক ওখানে Khana Suhana নামে একটি বাংগালী রেস্টুরেন্ট আছে। এখান থেকে দেশী খাবার খেতে পারেন যদিও দাম কিছুটা বেশি তবে খেয়ে তৃপ্তি পাবেন।

যেহেতু বাংগালী রেস্টুরেন্ট কম তাই খাবারের দামও অনেক বেশি। এমনকি থাই ফুডস থেকেও দাম বেশি যেমন শৈল মাছ ভোনা ১৮০ বাথ, চিংড়ি ভোনা রুই মাছ ভোনা ৭০ বাথ, গলদা চিংড়ি ভোনা ১৬০ বাথ, বেলে মাছ ভোনা ৭০ বাথ, কোরাল মাছ ভোনা ১৯০ বাথ, চিংড়ি ভর্তা ১৩০ বাথ, আলু ভর্তা ৪০ বাথ, পাতলা ডাল ৫০ বাথ, ঘন ডাল ভোনা ৭০ বাথ ইত্যাদি। কি মাথা ঘোরাচ্ছে নাকি উপরের দাম শুনে? থাইল্যান্ডে বাংলা খাবারের এরকমই দাম।

তুলনামূলক অনেক বেশি তবুও খেতে মন চাইলে অপশনতো পাচ্ছেন, এটাই বা কম কিসের। যাহোক ভিন্ন এরিয়াতে গেলে অবশ্যই সেই অঞ্চলের বা দেশের খাবার খেয়ে টেস্ট করাও উচিত। এক্ষেত্রে আপনি ওই অঞ্চলের খাবার সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা পাবেন।

এমনকি কিছু খাবার হয়তো আপনার ভালো লাগতেও পারে। তাই আমার পরামর্শ হচ্ছে খাবারের জন্য এক্সট্রা বাজেট রাখবেন। কারণ এতো দূরে হয়তো বার বার যাওয়া হবেনা, তাই অভিজ্ঞতা নেওয়া উচিত।

পাতায়ার কোথায় ঘুরবো?

গেছেন পাতায়ার সী বীচ দেখতে ওখা গিয়ে আগে সমুদ্রে ঝাপাঝাপি করে নিন তারপর আশেপাশে দেইখেন। পাতায়ার সমুদ্র সৈকত খুবই চমৎকার এবং ভালো লাগবে তবে আমার প্রিয় কক্স বাজার আমার কাছেই সেরা।

Believe it or not

আপনি পাতায়ার হোটেল থেকে বের হয়ে বিলিভ ইট অর নট নামে একটি মিউজিয়াম আছে সেখানে গিয়ে খুবই চমৎকার কিছু দেখতে পারবেন। পাতায়া সী বীচ থেকে মাত্র ২ কিমি দূরে এবং আপনার জন্য মোটরবাইক লাইসেন্স থাকে তাহলে সহজে ভাড়া নিতে পারবেন ঘণ্টা চুক্তি।

আমার মনে হয় মোটরবাইক নিয়ে পুরো ব্যাংকক সিটি ঘুরলে খরচ কম হবে এবং ইচ্ছামতো ঘুরতে পারবেন, কোন তাড়াহুড়ো করার কিচ্ছু নেই। যেখানে যাবেন মোটরবাইক সেখানে পার্কিং করে রাখবেন, চুরি হওয়ার কোন ভয় নেই কারণ প্রতিটি মোটরবাইক ট্রাকিং সিস্টেম তাছাড়া ওখানে চুরি হওয়ার সম্ভবনা খুবই কম।

আপনি যাদুঘরে অনেক কিছুই দেখতে পারবেন যেমন কাকড়ার ঠ্যাং দিয়ে চেয়ার বানানো, ভুতের পরিবেশ, এছাড়াও চমৎকার কিছু ফিচার আপনি দেখতে পারবেন যা আগে কখনো দেকেন নাই। এটির প্রবেশ মূল্য প্রতিজন ৩৮২ বাথ

আমার লেখা সব সময় একটু বড় হয়ে থাকে কারণ বিস্তারিত ভেংগে ভেংগে লেখার চেষ্টা করি যাতে নতুনরা উপকৃত হতে পারে। আপনার কোন মন্তব্য বা কিছু জানার দরকার হলে মেসেজ বা কমেন্টস করে জানাবেন, চেষ্টা করবো তথ্য দিয়ে সাহায্য করার, ভালো থাকুন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল থেকে ঘুরে আসুন এবং সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আপডেট ভিডিও পেতে

যারা আগের অর্থাৎ ২য় পর্ব মিস করেছেন তারা নিচের লিংকে ক্লিক করে বিস্তারিত পড়ে নিন

লেখাঃ শেখ আব্দুর রহমান

ওয়েবঃ www.bdindi-traverra.com
ব্যাপক তথ্য পেতে সাইট ভিজিট করুন

আরো আপডেট করা হবে……

ভ্রমণ হবে সহজে

"পরবর্তীতে পড়ার জন্য শেয়ার করে রাখুন"