থাইল্যান্ড ভ্রমণ-১ম পর্ব

থাইল্যান্ড ঘুরতে যাবেন? কিভাবে ভিসা পাবেন এবং কিভাবে যাবেন তার A to Z গাইডলাইন পড়ুন।

এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম ঘোরার জায়গা হচ্ছে থাইল্যান্ড। এই দেশ অনেক আগে থেকে ভ্রমণের জন্য পরিচিত সারা বিশ্বের ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে। আমিও ছোট্ট বেলা থেকে ব্যাংককের নাম শুনেছি অর্থাৎ থাইল্যান্ডের রাজধানী হচ্ছে ব্যাংকক। এই শহরটি বহু আগে থেকেই অনেক আপডেট এবং উন্নত। ব্যাংকক শহরটির নাম শুনে নাই এরকম লোক পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

ব্যাংকক থেকে পাতায়া (Pataya) এর দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিমি অর্থাৎ পাতায়া হচ্ছে থাইল্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় সমুদ্র সৈকত। এই সমুদ্র সৈকতের জন্য থাইল্যান্ড আরো বেশি জনপ্রিয়।

এই সৈকতে ঘুরতে আসে বিভিন্ন দেশের মানুষ। এজন্য থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ও পাতায়া এখন আন্তর্জাতিক ভ্রমণ কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে।

সবসময় এই শহর ঘিরে থাকে উৎসবের আমেজ, এখানে বেশ কিছু ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানের পাশাপাশি রয়েছে নাইট ক্লাব, বার ও লাইভ মিউজিকের সমাহার। এছাড়া যদি শহরটির পরিবহন ব্যবস্থার কথাও বলতে হয় যা চমৎকার ব্যবস্থা আপনাকে হতাশ করবে না।

ব্যাংকক শহরটিতে প্রতিবছর কয়েক লাখ পর্যটক আসা যাওয়া করে এবং বিভিন্ন বাজেটের মধ্যে অসংখ্য থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে রয়েছে নানা ধরণের রেস্টুরেন্ট, রয়েছে স্ট্রিট ফুডস।

ব্যাংকক শহরটিকে বলা হয়ে থাকে আধুনিক বিশ্বের প্রথম ও অন্যতম উন্নত শহর কারণ শুরুতেই এই শহরের বিল্ডিং, রাস্তাঘাট, সমুদ্র সৈকত মানুষকে আকৃষ্ট করে যা আগে কখনো দেখা সম্ভব হয় নাই, ধিরে ধিরে অন্য শহরগুলিও উন্নত হতে থাকে।

যাহোক কথা না বাড়িয়ে চলুন কিভাবে থাই ভিসা পাওয়া যাবে, কিভাবে যাবেন এবং কোথায় ঘুরবেন? আমি অন্তত ১০ টি পর্ব লিখবো যাতে থাইল্যান্ড ভ্রমণ নিয়ে খুটিনাটি অনেক কিছু জানতে পারবেন এবং আপনার ভ্রমণ আরো সহজ হবে

থাইল্যান্ডের ভ্রমন ভিসার ধরণ:

থাইল্যান্ড গভঃ বাংলাদেশের জন্য চার ধরণের ভিসার অনুমোদন দিয়ে থাকে অর্থাৎ আবেদন করতে পারবেন যেমন

√ টুরিস্ট ভিসা
√ ট্রানজিট ভিসা
√ Non immigrant ভিসা
√ গ্রুপ ট্রাভেল ভিসা

যেহেতু আপনি থাইল্যান্ড ঘুরতে যাবেন তাই আপনাকে অবশ্যই ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। তবে সরকারি অফিসার যারা সচীব বা মন্ত্রী তারা কুটনৈতিক ভিসাও পেয়ে থাকে।

ভিসা মূলত কি?

এটি এক ধরণের স্টাম্প বা স্টিকার বলতে পারেন অর্থাৎ কোন এম্বাসিতে ভিসার জন্য আবেদন করার পর তারা একটি মোটা বিশেষ পেপারস এ আপনার নাম, ভিসা নং, পাসপোর্ট নং, ভিসার মেয়াদ ও অন্যান্য তথ্যাদি ফিলাপ করে স্টিকার বা স্ট্যাম্প টাইপের বানিয়ে সেটি আপনার পাসপোর্ট এর ভিতরে খালি কোন পৃষ্ঠাতে লাগিয়ে দিয়ে থাকে যা উঠানো সম্ভব নয়। এই স্ট্যাম্প বা স্টিকার বাংলাদেশে অবস্থিত থাই এম্বাসি থেকে ইস্যু করে থাকে আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে থাই এয়ারপোর্ট থেকে এই স্টিকার দেওয়া হয়ে থাকে। আশা করি ভিসা ব্যাপারে জেনে গেছেন। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের ভিসা সিস্টেম একই।

তবে কিছু কিছু দেশ eVisa চালু করেছে অর্থাৎ ইলেক্ট্রনিক ভিসা। এই ভিসার জন্য এম্বাসিতে যাওয়া লাগে না, সরাসরি এম্বাসির ওয়েবসাইটে গিয়ে পাসপোর্ট এর তথ্য এবং ভিসা ফি ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার বা ভিসা কার্ড দিয়ে পরিশোধ করার পর ৭২/৯৬ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে সব কিছু ঠিক মনে হলে আপনার ইমেইল এ ভিসার কপি দিয়ে দিবে এবং সেটি প্রিন্ট করে কাছে রাখলেই হবে।

আশা করছি, থাইল্যান্ড সরকারও বাংলাদেশীদের জন্য ই-ভিসা চালু করবে বলে আশাবাদি, ভারতকে অলরেডি ই-ভিসা সুবিধা দিচ্ছে, তারা খুব সহজে ঝামেলা ছাড়া থাইল্যান্ড ভিসা পেয়ে যাচ্ছে।

থাইল্যান্ড ঘুরতে ভ্রমণ ভিসার জন্য কি কি ডকুমেন্টস দরকার?

√ আপনার পাসপোর্ট এর কপি
(আবেদনের দিন থেকে পাসপোর্ট এর মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে)।

√ জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি অর্থাৎ NID কপি

√ আগে যদি থাইল্যান্ড গিয়ে থাকেন তাহলে সেই ভিসা কপিও দিতে হবে।

√ ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি (ছবির সাইজ হবে ৩.৫×৪.৫ সে.মি)

√ লাস্ট ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং সাথে ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট দিতে হবে।

(ব্যাংক সলভেন্সি ব্যাংকের ম্যানেজার বরাবর দরখাস্ত করলেই দিয়ে দিবে এবং ব্যাংক এ অন্তত ৭০/৮০ হাজার টাকা থাকবে হবে যদি একা হন আর দুজন হলে অর্থাৎ সাথে যদি বউ বা মা বা বাবাকে নিয়ে যান সেক্ষেত্রে অন্তত ১.৫ লক্ষ টাকা থাকতে হবে, বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ কারণ আপনার থাইল্যান্ড ঘোরার সামর্থ্য আছে কিনা সেটার প্রমান করতে হবে ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিয়ে।

√ পেশাগত প্রমাণপত্র কপি দিতে হবে

(যদি আপনি ছাত্র-ছাত্রী হন তাহলে কলেজ/ভার্সিটি আইডি কার্ডের ফটোকপি এবং চাকরি করলে আপনার ভিজিটিং কার্ড কপি, NOC কপি অবশ্যই এবং ব্যবসা করলে ট্রেড লাইসেন্স দিবেন তবে ট্রেড লাইসেন্স বাংলাতে থাকলে সেটা উকিলের সহায়তা নিয়ে নোটারি করে ইংরেজিতে করতে হবে, নতুবা গ্রহণ করবে না)।

√ ট্র্যাভেল আইটিনারি দিতে হবে
( Travel itinerary হচ্ছে আপনি থাইল্যান্ড কেন ভ্রমণ করবেন এবং কোথায় কোথায় ঘুরবেন সেসব সম্পর্কে বিস্তারিত লেখা থাকতে হবে, এটি A4 সাইজের পেপারে দিলেই হবে)।

√ থাইল্যান্ড এ অবস্থিত কোন এক হোটেল বুকিং স্লিপ

√ ভিসা আবেদনের ফর্ম ফিলাপ কপি

উপরের সমস্ত কিছু সঠিকভাবে সংগ্রহ করে ভিসা এপ্লিকেশন form পূরণ করে এম্বাসিতে গিয়ে সরাসরি জমা দিতে পারেন অথবা কোন এজেন্সির মাধ্যমেও জমা দিতে পারেন। এজেন্সির মাধ্যমে জমা দিলে এক্সট্রা ৬০০/৮০০ টাকা ফি নিবে তবে নিজে জমা দিন, অভিজ্ঞতা নিন এবং সাহস বাড়িয়ে ফেলুন😍

কিভাবে ভিসার জন্য জমা দিবেন?

পাসপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য আপনাকে সপ্তাহের রবি থেকে বৃহঃবার গুলশানের VFS অফিসে গিয়ে জমা দিতে হবে।

ভিসার আবেদন করতে সকাল ৭ টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে তাই সকালবেলা ভিসা অফিসে চলে যাবেন। দুজন হলে যে কোন একজনের গেলেই হবে।VFS প্রতিদিন ৩০০ টি ভিসা আবেদন জমা নিয়ে থাকে তবে পরিস্থিতির উপর ডিপেন্ড করে। এখানে প্রবেশ করার সময় আপনি ডকুমেন্টস এবং পাসপোর্ট সাথে নিয়ে ভেতরে যেতে পারবেন।

অফিসার আপনাকে জিজ্ঞেস করবে যে নিজের জন্য নাকি কোন এজেন্সি থেকে এসেছেন সেটি জানার পর আপনাকে একটি টোকেন দিয়ে অপেক্ষা করতে বলা হবে।

আপনার টোকেন নাম্বার সিরিয়াল অনুযায়ী ডাকা হবে এবং আপনাকে সব কাগজপত্র নিয়ে পাসপোর্ট কাউন্টারে যাবেন। আপনার সব কাজগপত্র দেখে আপনাকে জমা স্লিপ হাতে দিবে।

জমা স্লিপ নিয়ে টাকা জমা দেওয়ার পর পূনরায় একই কাউন্টার থেকে আপনাকে পাসপোর্ট নেওয়ার একটি স্লিপ দিয়ে দিবে। এখন আপনি বাসায় চলে যেতে পারেন।

আপনার মোবাইল নাম্বারটি একটিভ রাখবেন কারণ যে কোন সময় এম্বাসি থেকে ফোন দিতে পারে অর্থাৎ জমা দেওয়ার ২/৩/৫/৭ দিনের মধ্যে ফোন দিবে ভেরিফিকেশন এর জন্য এবং আপনার নাম, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ঠিক আছে কিনা, কি করেন, কতদিন ঘুরবেন এই সব আর কি। খুব স্বাভাবিক ভাবে উত্তর দিবেন।

এরপর মেসেজ পেয়ে যাবেন এবং অনলাইনে চেকিং করতে পারবেন তবে ৫/৭ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট ফেরত পেয়ে যাবেন অর্থাৎ অফিসে গিয়ে নিয়ে আসবেন এবং ভিসা হলো কিনা তখন জানতে পারবেন।

কখন পাসপোর্ট জমা দিবেন ভিসা অফিসে?

রবিবার থেকে বৃহঃবার সকাল ৮.৩০ মি থেকে সকাল ১১ টা পর্যন্ত ভিসার আবেদন জমা নেওয়া হয়।

যারা সরকারি জব করেন অর্থাৎ যাদের ডিপ্লোমেটিক এবং অফিসিয়াল আছে তারা সকাল ৮.৩০ থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ভিসার আবেদন জমা দিতে পারেন।

থাই ভিসার ফি এবং মেয়াদ কতদিন?

প্রতিজন বাবদ ৩৮০০ টাকা (সিঙ্গেল এন্ট্রি) এবং ৩ মাস মেয়াদ দিয়ে থাকে তবে হায়েস্ট ৬০ দিন থাইল্যান্ড ঘুরতে পারবেন, এর বেশি নয়।

১৫,৮০০ টাকা (মাল্টিপল এন্ট্রি) ৬ মাস মেয়াদ দিয়ে থাকে এবং হায়েস্ট ৬০ দিন ভ্রমণ করতে পারবেন তারপর দেশে এসে কিছুদিন পর আবার যেতে পারবেন।

উপরে উল্লেখিত ফি মূলত ব্যাংকে জমা দিতে হবে অর্থাৎ থাই ভিসা ফি।

কখন পাসপোর্ট সংগ্রহ করবেন?

সরকারি ছুটি বাদে প্রতিদিন দুপুর ১ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন এবং যাওয়ার সময় অবশ্যই জমা টোকেন স্লিপ এবং অরিজিনাল ন্যাশনাল কার্ড নিতে ভুলবেন না প্লিজ।

ভিসা আবেদন ফর্ম কোথায় পাবেন?

আপনি চাইলে নিচের লিংক থেকে ভিসার আবেদন ফর্ম ডাউনলোড করে প্রিন্ট করুন এবং সঠিকভাবে ফিলাপ করুন সাথে অন্যান্য ডকুমেন্টস সঠিকভাবে সাজিয়ে ভিসা অফিসে চলে যান।

ভিসা এপ্লিকেশন ফর্ম লিংক, নিচের লিংক থেকে পেয়ে যাবেন….

https://www.vfsglobal.com/thailand/bangladesh/Manual_Visa_Application_Form.html

ভিসা যাচাই কিভাবে করবেন?

আপনার আবেদন এবং ফোন ভেরিফিকেশন হয়ে যাওয়ার পর সর্বশেষ তথ্য অনলাইন ট্রাকিং এর মাধ্যমে জানতে পারবেন যা নিচের লিংক থেকে জেনে নিতে পারবেন http://thaivisabd.com/tracking/

এটা জানার জন্য আপনাকে টোকেন স্লিপ থেকে রেফারেন্স নাম্বার ইনপুট করে জেনে নিতে পারবেন।

ধরে নিচ্ছি, আপনার ভিসা হয়ে গেছে সেক্ষেত্রে এখন দ্রুত রিটার্ন প্লেনের টিকিট বুকিং করতে হবে। বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন এয়ারলাইনস থাইল্যান্ডে গিয়ে থাকে যেমন US Bangla air বা Lion airlines বা Thai airways আপনার সুবিধামতো ভ্রমণের তারিখ ফিক্সড করে প্লেন টিকিট করে নিন যেমন ইউ এস বাংলা এয়ারে প্রতিজন রিটার্নসহ ১৫৫০০/১৬০০০ টাকা নিয়ে থাকে আবার Lions air এ ১৪৫০০/১৫০০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন।

তবে Lions এ একটা অসুবিধা আছে সেটি হলো হ্যান্ড লাগেজ নিতে পারবেন এবং ৭ কেজি পর্যন্ত তবে লাগেজ নিলে আলাদা ভাড়া এয়ারপোর্টে উপস্থিত হয়ে পরিশোধ করতে হবে এবং যাওয়ার দিন ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে কাজটি সম্পন্ন করতে হবে। আমার পরামর্শ হচ্ছে US Bangla এয়ারে যাওয়া ভালো।

ঢাকা থেকে ব্যাংকক যাওয়ার রিটার্ন এয়ার টিকিট বুকিং করতে হবে কারণ ব্যাংকক রাজধানি এবং সারা বিশ্ব থেকে ব্যাংককের ফ্লাইট থাকে, তাই বাংলাদেশ থেকেও ব্যাংকক যেতে হবে। ব্যাংককের Suvaranbhumi int.airport এ নামতে হবে এবং ঢাকা থেকে ডিরেক্ট ফ্লাইট। ঢাকা থেকে ব্যাংককের দূরত্ব প্রায় ১৬০০ কিমি পথ এবং যেতে সময় লাগে ২ ঘণ্টা ২০ মিনিটের মতো বা আড়াই ঘণ্টা।

এটি মূলত ব্যাংকক এয়ারপোর্ট নামেই বেশি পরিচিত যেমন শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অথচ সবাই ঢাকা এয়ারপোর্ট নামেই চিনে থাকে যেহেতু IATA কোড হচ্ছে DAC ঠিক Suvaranbhumi এয়ারপোর্টের কোড হচ্ছে BKK অর্থাৎ ব্যাংকক (Bangkok)।

তবে Lions এয়ারে করে গেলে আপনাকে নামতে হবে Don Mueang int.airport (ডন মুয়েং এয়ারপোর্ট) এটিও ব্যাংককে অবস্থিত অর্থাৎ ব্যাংককে মোট দুটি এয়ারপোর্ট। ব্যাংকক এয়ারপোর্ট থেকে এই এয়ারপোর্টের দূরত্ব প্রায় ৪৬ কিমি দূরে অবস্থিত। লায়োন এয়ারলাইন্স এই এয়ারপোর্ট ল্যান্ড করে এবং কিছুটা চিপ এয়ারলাইনস।

ধরে নিচ্ছি, আপনি ব্যাংকক এয়ারপোর্ট নামবেন অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে ৮৫% ট্যুরিস্ট ব্যাংকক এয়ারপোর্ট নেমে থাকে।

ব্যাংকক এয়ারপোর্ট নামার পর কি করবেন এবং কোথায় যাবেন?

ব্যাংকক এয়ারপোর্ট নেমে প্রথমে ডলার ভাংগিয়ে থাই বাথ নিয়ে নিন। যদি ১০০ ডলার ভাংগান সেক্ষেত্রে ২৯০০/৩০০০ বাথ পেয়ে যাবেন যেহেতু ডলারের রেট প্রতিনিয়ত উঠানামা করে। ১ থাই বাথ সমান প্রায় বাংলাদেশি ৩ টাকার সমান….

এরপর এয়ারপোর্ট থেকে সিম কিনবেন কারণ সিম ছাড়া যোগাযোগ করা অসম্ভব তাই এটি খুবই জরুরী। এয়ারপোর্টের ভিতরে বিভিন্ন প্যাকেজ আছে যেমন ২৯৯ বাথ দিয়ে ১৫ জিবি এবং কিছু মিনিট পেয়ে যাবেন। নেট কানেকশন থাকলেই যোগাযোগ সহজে করতে পারবেন। আপনি চাইলে এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে ব্যাংকক শহরে একদিন সময় কাটাতে পারেন এবং পরের দিন পাতায়া যেতে পারেন, আপনার ইচ্ছা।

ব্যাংকক এয়ারপোর্ট থেকে (Payaya) পাতায়া কিভাবে যাবেন?

সবার মেইন উদ্দেশ্য থাকে সরাসরি পাতায়া যাওয়ার। আপনি এয়ারপোর্ট থেকে দুই উপায়ে পাতায়া যেতে পারবেন যেমন ট্যাক্সি এবং বাস।

ট্যাক্সি দিয়ে যেতে চাইলে ভাড়া একটু বেশি নিবে। আপনি এয়ারপোর্ট থেকে বের হতে থাকেন, দেখবেন ডিজিটাল ডিসপ্লেতে 1 no এ পাব্লিক ট্রান্সপোর্ট উল্লেখ আছে অর্থাৎ ট্যাক্সি এবং বাস।

আপনি এগিয়ে যেতে থাকেন অথবা সিকিউরিটি অফিসারকে জিজ্ঞেস করলে বাস কাউন্টার এরিয়া দেখিয়ে দিবে, এই এয়ারপোর্ট এর মধ্যে সব ধরনের যাতায়াত সুযোগ সুবিধা আছে।

আমাদের ঢাকা এয়ারপোর্টের ক্ষেত্রেও একই সিস্টেম হতে যাচ্ছে যদিও ২০২৩ সালের শেষ দিকে চালু হবে, তখন যাত্রীরা এয়ারপোর্টের মধ্যে দিয়েই বাস বা ট্রেনে বা মেট্রোতে যাতায়াত করতে পারবে এবং কিছুটা জ্যাম কমে যাবে।

যাহোক বাস কাউন্টারে গিয়ে পাতায়া যাওয়ার বাস টিকিট করে নিবেন, প্রতিজন ভাড়া ১৩০ বাথ নিবে তবে সময় ও বাসের ধরণ অনুযায়ী ২৫০ বাথও হতে পারে। ব্যাংকক টু পাতায়া প্রায় ১৪৫ কিমি দূরে এবং পাতায়া যেতে সময় লাগে অন্তত ৩ ঘণ্টা। আপনার যদি তাড়াহুড়া না থাকে তবে বাসে যেতে পারেন নতুবা প্রাইভেট ট্যাক্সিতে করে, ট্যাক্সিতে ভাড়া নিবে প্রায় ১২০০/১৩০০ বাথ রাস্তার টোল ট্যাক্সসহ।

ব্যাংকক এয়ারপোর্ট টু পাতায়া বাসের সময়সূচিঃ

প্রথম ট্রিপ সকাল ৭ টায়
২য় ট্রিপ সকাল ৮ টায়
লাস্ট ট্রিপ রাত ১০ টায়

অর্থাৎ প্রতি ১ ঘণ্টা পর পর বাস পাবেন। টিকিট বুকিং করার পর কাউন্টারের ওখানে অপেক্ষা করুন, সময়মতো বাস এসে গেলে বা ছাড়ার সময় হলে ডাক দিবে এবং বাসে উঠে পড়বেন।

বাস ছাড়তে দেরি হলে পাশেই ফুডস কোর্ট আছে, চাইলে সেখান থেকে কিছু খাওয়া দাওয়া করতে পারেন।

পাতায়ার কোথায় নামতে পারবেন?

বাসে করে গেলে পাতায়ার ৩টি স্থানে নামতে পারবেন যেমন
√ North Pataya road অর্থাৎ পাতায়ার নর্থ বাস স্টেশন
√ Central Pataya road অর্থাৎ LK মেট্রো রোডের একদম কাছে
√ South Pataya road অর্থাৎ Walking স্ট্রিট রোডের একদম কাছে

এই বাস এর লাস্ট স্টপেজ পাতায়ার পরে গিয়ে থামে অর্থাৎ Thappraya Road অর্থাৎ Opposite of Pan Pan restaurant হচ্ছে শেষ গন্তব্য।

পাতায়া বাস স্ট্যান্ড নেমে কোথায় যাবেন?

আপনার সুবিধামতো পাতায়া বাস স্ট্যান্ড নেমে একটি টুকটুকি/টেম্পু নিয়ে পাতায়া বীচে চলে যান, সময় লাগবে মাত্র ১২/১৫ মিনিট এবং ভাড়া নিবে প্রতিজন ৫০ বাথ যেহেতু ট্যুরিস্ট তাই একটু বেশিই নিবে।

(টুকটুকি হচ্ছে আমাদের দেশে ইজিবাইক আর থাইল্যান্ডে টুকটুকি বলা হয়ে থাকে এবং ভিন্ন ডিজাইনের হয়ে থাকে তবে সিস্টেম একই)।

যাহোক পাতায়া সী বীচের আশেপাশে শত শত হোটেল আছে, যদি আগে থেকে হোটেল বুকিং করে আসেন সেক্ষেত্রে টুকটুকিকে বললে তারাই হোটেলের নিচে নামিয়ে দিবে আর যদি ঠিক করা না থাকে সেক্ষেত্রে পাতায়া বীচের যে কোন স্থানে নেমে হোটেল খুঁজে নিবেন।

টুকটুকি থেকে নেমে আপনার আগে থেকে ঠিক করা বা ওই সময়ে খুঁজে হোটেলে উঠুন তারপর ফ্রেশ হয়ে….🤔

লিখতে লিখতে হাত ব্যাথা ও চোখে ঘুম আসছে তাই আর এগিয়ে নিতে পারছি না। ইনশাআল্লাহ ২য় পর্ব খুব দ্রুত আসছে🥰

আমার লেখাগুলো একটু বিস্তারিত হয়ে থাকে তাই যাদের ধৈর্য আছে তারা পড়বেন, অন্যরা ৩/৪ দিন সময় নিয়ে পড়তে পারেন😀

ঘরে বসে বিশ্বের যে কোন রুটের এয়ার টিকিট সঠিক দামে নিন একদম সহজে। ভারতের ট্রেন/এয়ার টিকিট নিতে আজই যোগাযোগ করুন। এমনকি সি এম সি হাসপাতালের ডাঃ আ্যপ, গাইডলাইন ও পরামর্শ নিন।

লেখাঃ শেখ আব্দুর রহমান

জরুরী প্রয়োজনেঃ ০১৭১৭-১৮৫৩৬০ (Whatsup)

ভ্রমণ হবে সহজে

"পরবর্তীতে পড়ার জন্য শেয়ার করে রাখুন"