অনেকে পাসপোর্ট করে ভিসা করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বা কেউ হয়তো ভারতে যাওয়ার জন্য ট্যুরিস্ট বা মেডিকেল ভিসা পেয়ে গেছেন কিন্তু যারা নতুন তারা হয়তো চিন্তা করছেন কিভাবে যাবেন, কোথায় গিয়ে উঠবেন এবং আরো নানা রকম চিন্তা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।

যারা ভিসা করতে দিবেন তারা আগরতলা পোর্ট দিবেন যখন এপ্লিকেশন ফিলাপ করবেন কারণ এয়ারপোর্ট বা বেনাপোল বা গেদে বা ট্রেন রোড এগুলো সমস্ত ট্রাভেলারদের জন্য উন্মুক্ত মানে এই রুট গুলো দিয়ে সবাই অবাধে যাতায়াত করতে পারবে, ভিসাতে পোর্ট উল্লেখ না থাকলেও তাই অযথা এসব রুট দিবেন না, এক্সট্রা সুবিধা হিসেবে আগরতলা পোর্ট দিবেন।

আপনি আগরতলা দিয়ে যেতে চান বা না চান তবুও দিবেন কারণ আপনার কোন কারণে এই রুট ব্যবহার দরকার হলে সহজে তখন যাতায়াত করতে পারবেন যেহেতু চিটাগং এর কাছের পোর্ট এই আগরতলা। আশা করি চিটাগংবাসী এই বিষয়টি খেয়াল করবেন যখন ভিসার জন্য এপ্লিকেশন ফিলাপ করবেন বা কোন এজেন্সি দিয়ে করিয়ে নিতে চাইলে তাদেরকে পোর্টের বিষয়টি বলে দিবেন।

আজ বিস্তারিত জানাবো চিটাগং বাসীন্দারা কিভাবে মাদ্রাজ বা ভেলরে যাবেন এবং যাতায়াত সহ বিস্তারিত তুলে ধরছি —–

আপনি চিটাগং থেকে ৩ ভাবে যাত্রা শুরু করতে পারেন। আপনার উপর নির্ভর করছে আপনি কিভাবে যাবেন কারণ এক্ষেত্রে কিছুটা টাকার ব্যাপার-স্যাপার থাকে। যাইহোক আমি সব ধরণের উপায় জানিয়ে দিচ্ছি ——-

চিটাগাং এর বাসা থেকে বের হয়ে বাসে বা ট্যাক্সিতে করে চিটাগং এয়ারপোর্ট চলে যান। ইমিগ্রেশন এর কাজ শেষ করে ফাইনাল স্টেজে বসে থাকুন আর অপেক্ষা করুন ফ্লাইটের জন্য কারণ আপনি চেন্নাই এয়ারে যাচ্ছেন।

চিটাগং থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালু আছে চেন্নাই এয়ারপোর্ট পর্যন্ত যেমন US Bangla air তবে এই ফ্লাইট সপ্তাহে ৩ দিন যাতায়াত করে যেমন রবিবার, মংগলবার এবং বৃহঃবার।

মূলত ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে ছেড়ে চিটাগং এসে ল্যান্ড করে এবং ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে যাত্রী উঠিয়ে সরাসরি চেন্নাই এর উদ্দেশ্য নিয়ে যাত্রা করে। চিটাগং এয়ারপোর্ট থেকে সকাল ১০ টায় যাত্রা শুরু করে এবং চেন্নাই গিয়ে ল্যান্ড করে দুপুর ১২ টা ৩০ মিনিটে, একদম নন স্টপ ফ্লাইট। যেহেতু এটি সরাসরি ফ্লাইট এবং একমাত্র ফ্লাইট তাই ভাড়া একটু বেশি যেমন প্রতিজন ওয়ানওয়ে ভাড়া প্রায় ১২০০০/১৩০০০ টাকা বা অনেক সময় ১৪০০০/১৫০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এটা নির্ভর করছে আপনি কখন টিকিট বুকিং করবেন।

আপনি যদি ২০/২৫ দিন আগে বুকিং দিতে পারেন তাহলে ১১০০০/১২০০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন আর কম সময়ের মধ্যে বুকিং দিলে উপরে উল্লেখিত প্রাইসে টিকিট নিতে হবে। যাইহোক চেন্নাই এয়ারপোর্ট ল্যান্ড করলো।

এবার কিছু প্রশ্ন-উত্তর মাধ্যমে কিছু বিষয় সম্পর্কে আরো পরিস্কার ধারণা দিচ্ছি —-

আচ্ছা, ল্যাগেজ কিভাবে নিবো চেন্নাই নেমে?

উত্তরঃ আপনি যখন চেন্নাইতে ল্যান্ড করবেন তখন বিমানের ক্রু বলে দিবে কত নং বেল্টের উপর আপনার লাগেজ যাবে।

#বেল্ট কি বুঝলাম নাতো?

উত্তরঃ বিমান থেকে সমস্ত লাগেজ একটা একটা করে বেল্টের উপর ছেড়ে দেই ব্যাকেন্ড থেকে বিমানে নিয়োজিত কর্মীরা যা আপনি দেখতে পাবেন না কিন্তু এয়ার থেকে নেমে ভিতরে প্রবেশ করলে দেখবেন স্টিলের মতো চারিদিক ঘুরছে যা বেল্ট নামে পরিচিত এবং সবার লাগেজ ওখানে আসছে ধিরে ধিরে। প্রতিটি এয়ারপোর্টে এরকম ৩/৪/৫/৬ টির মতো বেল্ট থাকে। এয়ারপোর্টের সাইজের উপর এবং ব্যস্ততার উপর বেল্টের সংখ্যা কম বেশি হয়ে থাকে।

#আচ্ছা, আমি যে লাগেজ দিয়েছিলাম তার কি কোন এক্সটা প্রমাণ আমাকে দিবে?

উত্তরঃ জি, আপনি যখন চিটাগং এয়ারপোর্ট এ প্রবেশ করে US Bangla এয়ারের কাউন্টারে লাইনে দাড়িয়েছিলেন মেইন টিকিট ও সিট নাম্বার নেওয়ার জন্য তখন আপনার মেইন টিকিটের পিছনে দেখুন স্টিকার লাগিয়ে দিয়েছিল। যদি দুটি লাগেজ বোর্ডিং এ দিয়ে থাকেন তাহলে দুটি স্টিকার লাগিয়ে দিয়েছিল এবং ব্যাগ তারা চলমান ট্রেতে ছেড়ে দিয়েছিল যা একটা জায়গা পর্যন্ত ব্যাগ বা লাগেজ যাবে এবং সেখান থেকে বিমানের নিয়োজিত কর্মীরা সেই লাগেজ বা ব্যাগ গুলো বিমানের মধ্যে রেখে দেই নিজ দায়িত্বে তাই টেনশনের কোন কারণ নেই।

#আচ্ছা, চিটাগং এয়ারপোর্টে প্রবেশ করার সময় কি কি করতে হয়? আমি নতুন তাই জানতে চাচ্ছি।

উত্তরঃ বাসা থেকে বের হয়ে আপনি প্রাইভেট বা ট্যাক্সি থেকে এয়ারপোর্ট নামবেন এবং এয়ারপোর্ট এর গেট দিয়ে প্রবেশের সময় সিকিউরিটি গার্ড আপনার ই-টিকিট ও পাসপোর্ট চেক করবে, সব কিছু ঠিক থাকলে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দিবে তারপর আপনি US Bangla এয়ার স্ক্যানার মেশিনের কাছে গিয়ে লাগেজ স্ক্যানার মেশিনের উপর দিয়ে স্ক্যান করিয়ে নিবেন তবে কাধের ব্যাগ স্ক্যান করার প্রয়োজন নেই।

স্ক্যান শেষ হলে ওখানকার সিকিউরিটি অফিসার আপনার লাগেজে ট্যাগ বসিয়ে দিবে মানে সিলগালা করে দিবে মানে স্ক্যান কমপ্লিট। তারপর ইউ এস বাংলার কাউন্টারে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে বাকি কাজ শেষ করুন।

#প্লেনের সিট কি নিজের মতো নিতে পারবো?

উত্তরঃ নিজের মতো সিট নিতে হলে এজেন্সির মাধ্যমে যখন টিকিট বুকিং করবেন তখন এজেন্সিকে বললে তারা বুকিং করে দিবে তবে এক্ষেত্রে প্রতিজন এক্সট্রা ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা আপনাকে বেশি দিয়ে সিট বুকিং করতে হবে। তবে ৯৫% যাত্রী আগে সিট বুকিং দেই না কারণ এয়ারপোর্টে গিয়ে সরাসরি কাউন্টার থেকে সিট নিতে পারছেন, তাছাড়া যখন বুকিং দিচ্ছেন তখন আপনার জন্য সিট বরাদ্দ থাকছে। তবে পছন্দ মতো নিতে হলে এক্সট্রা ৮০০/১০০০ টাকা খরচ করতে হবে। আশা করি বুঝছেন।

#আমি কত কেজি পর্যন্ত নিতে পারবো?

উত্তরঃ আপনি ২০ কেজি পর্যন্ত লাগেজে নিতে পারবেন এবং কাধের বা হ্যান্ড ব্যাগেজে ৭ কেজি পর্যন্ত নিতে পারবেন তবে এর বেশি নিতে চাইলে প্রতি কেজি বাবদ এক্সট্রা ৪০০/৫০০ টাকা করে দিতে হবে যা এয়ার লাইন্সের রুলস। তবে এই টাকার পরিমাণ কম বেশি হতে পারে যেহেতু বিভিন্ন এয়ারে বিভিন্ন রেট থাকে তবে এরকম রেট হয়ে থাকে।

#লাগেজের মধ্যে কি কি নেওয়া যাবে না?

উত্তরঃ অবশ্যই অবশ্যই মোবাইলের চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক, দিয়াশলাই, বডি স্প্রে এসব নিবেন না কারণ আপনার লাগেজ ইঞ্জিনের পাশে থাকবে তাই বিপদজনক। আপনি এসব জিনিসগুলো আপনার হ্যান্ড বা কাধের ব্যাগে নিতে পারবেন, কোন সমস্যা নেই কারণ কাধের ব্যাগ আপনার কাছে থাকবে তাই কোন রিস্ক নেই।

লাগেজের মধ্যে ছুরি, কাচি, এসব নিতে পারবেন কারণ লাগেজ যেখানে থাকে এসব নিরাপদ হিসেবে গণ্য হয় কিন্তু হ্যান্ড বা কাধের ব্যাগে নিতে পারবেন না। পানির বোতল হাতে নিতে পারবেন না, অবশ্যই হ্যান্ড বা কাধের ব্যাগের মধ্যে নিবেন নতুবা রেখে দিবে।

#এবার বলুন চেন্নাই নেমে কিভাবে আ্যপোলো হাসপাতাল বা শংকরনেত্রালয় বা আশেপাশে যাবো?

উত্তরঃ চেন্নাই এয়ারপোর্ট নেমে হেটে বিল্ডিং এর ভিতর প্রবেশ করবেন, আপনার সাথে যারা আছে তাদেরকে অনুসরণ করলেই বুঝবেন। তারপর বেল্টের কাছে গিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করুন তারপর লাগেজ সংগ্রহ করুন এবং লাগেজ নিয়ে এগিয়ে যান এবং Exit গেট দিয়ে বের হন। গেট দিয়ে বের হয়ে Prepaid Taxi বুথ ঘর দেখতে পারবেন সেখানে গিয়ে বলুন যে আপনি Gream Road যাবো (I want to go to Greams road, beside of apollo hospital) এবং ৫০০ রুপি জমা দিন, দেখবেন কিছুক্ষণ পর ড্রাইভার এসে হাজির হবে। আপনি কারে উঠে পড়ুন। এয়ারপোর্ট থেকে গ্রীমস রোড প্রায় ১৮ কি.মি. দূরে আর গ্রীমস রোডে যেতে লাগবে প্রায় ৩৫/৪০ মিনিটের মতো। আপনার যদি আগে থেকে হোটেল ঠিক করা থাকে তাহলে সেই হোটেলের ঠিকানা ড্রাইভার ভাইকে দিন, উনি সঠিক যায়গা নামিয়ে দিবে।

আর যদি কেউ উবার আ্যপ্স ব্যবহার করে থাকেন তাহলে বেল্ট থেকে লাগেজ নিয়ে বের হওয়ার সময় উবার আ্যপ্সে লগিন করে Chennai Domestic airport সিলেক্ট করুন তারপর Greams Road সিলেট করে সার্চ করুন, দেখবেন কার ভাড়া চলে আসবে যেমন ৩৮০ বা ৪০০ বা তার বেশি হতে পারে। আপনি কনফার্ম এ ক্লিক করে বাইরে বের হন আর India Flag এর নচে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকুন মানে উবারের স্টপেজ হচ্ছে Indian Flag এর নিচে। বাইরে বিশাল এক ইন্ডিয়ান ফ্লাগ দেখতে পারবেন, ওটাই হচ্ছে উবার স্ট্যান্ড।

#গ্রীমস রোডের আশেপাশে কোন হোটেল ঠিকানা কি দিতে পারবেন?

উত্তরঃ জি, অনেক হোটেল পাবেন। মূলত কলকাতা ও বাংলাদেশের ম্যাক্সিমাম পেসেন্ট এই এরিয়াতে এসে হোটেলে উঠে থাকে।

কয়েকটি হোটেলের নাম দিচ্ছি —
Royal Residency
গ্রীমস রোড (Begum Sahib street)
Lif facilities, Kitchen
Fare: 600/700 Rupee per day

Classical Residency
গ্রীমস রোড ( Begum Sahib street)
Lift facilities, Kitchen
Fare: 600/700 Rupee per day
AC room fare: 1000/1100 Rupee

দুটি হোটেল একই লাইন বরাবর এবং প্রথমে পাবেন Royal Residency তার পরে পাবেন Classical Residency এছাড়াও আরো বহু হোটেল পাবেন।

#আ্যপোলো বা শংকরনেত্রালয় হাসপাতাল কত দূরে এই এরিয়া থেকে?

উত্তরঃ একদম পাশে, ৩/৪ মিনিট লাগবে হেটে যেতে আ্যপোলো হাসপাতালে এবং শংকর নেত্রালয় হাসপাতাল প্রায় ১ কি.মি. দূরে তাই অটো ভাড়া নিবে ৪০ রুপি ৩ জন পর্যন্ত।

#আচ্ছা, চেন্নাই এয়ারপোর্ট থেকে ভেলরের CMC হাসপাতাল কত দূরে?

উত্তরঃ ১৪০ কি.মি. দূরে। ভেলর হচ্ছে তামিল নাড়ু রাজ্যের আলাদা একটি জেলা শহর যেখানে বিখ্যাত সি এম সি হাসপাতাল অবস্থিত এবং এটি ব্রিটিশ আমলে ১৯০০ সালে স্থাপিত। এই হাসপাতালে দৈনিক ৮০০০/৯০০০ লোক রোগ দেখানোর জন্য আসা যাওয়া করে থাকে।

#এয়ারপোর্ট থেকে CMC কিভাবে যাবো?

উত্তরঃ আপনি এয়ারপোর্ট থেকে সি এম সি হাসপাতালে ৩ উপায়ে যেতে পারবেন যেমন

উপায় একঃ
আপনি এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে প্রাইভেট ট্যাক্সি ভাড়া করতে পারেন। এয়ারপোর্ট এর গেট দিয়ে বাইরে বের হয়ে অনেক ড্রাইভার পাবেন যারা আপনাকে অফার করবে বিভিন্ন জায়গা যাওয়ার জন্য, তাদের সাথে কথা বলে ভাড়া ঠিক করে নিবেন তবে ভাড়া ১৬০০ থেকে ২০০০ রুপির মধ্যে পেয়ে জাবেন এবং ৪ জন পর্যন্ত যেতে পারবেন। এয়ারপোর্ট থেকে ভেলরের সি এম সি হাসপাতাল পর্যন্ত যেতে প্রায় ৩ ঘন্টার কিছু কম সময় লাগবে। এয়ারপোর্ট থেকে হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ১৪০ কি.মি.।

#উপায় দুইঃ
আপনি এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে উবার বা ট্যাক্সি ভাড়া করে চেন্নাই সেন্ট্রাল রেল স্টেশনে যাবেন, ভাড়া নিবে প্রায় ৪০০/৪৫০ টাকার মতো এবং সময় লাগবে প্রায় ৩৫/৪০ মিনিটের মতো তারপর স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে কাটপাডি স্টেশন গিয়ে নামবেন। ভেলরের একটাই স্টেশন যার নাম কাটপাডি স্টেশন, এখানেই আপনাকে নামতে হবে।

এই ট্রেনের টিকিট আগে থেকে অগ্রীম নিয়ে রাখতে হবে নতুবা সাথে সাথে কোন ট্রেনে সিট পাবেন না। ট্রেনের ভাড়া ৯০ রুপি করে, যেহেতু মাত্র ২ ঘন্টা লাগে তাই নরমাল সিটই যথেস্ট। তারপর কাটপাডি নেমে একটা অটো ভাড়া করবেন। স্টেশন থেকে সি এম সি পর্যন্ত অটো ভাড়া নিবে ১৭০/১৮০ রুপি করে এবং ৩ জন যেতে পারবেন তবে ৪ জন হলে আরো ২০ রুপি এক্সটা দাবি করবে। অটোতে যেতে মাত্র ১৫/২০ মিনিট সময় লাগবে।

#উপায় তিনঃ (ট্যাক্সি + বাস)
আপনি এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে একটা ট্যাক্সি নিয়ে সরাসরি KoyamBedu (কোয়েমবেডু) বাস স্ট্যান্ডে যাবেন। ভাড়া নিবে প্রায় ৪৫০/৫০০ রুপি এবং সময় লাগবে ৪০/৪৫ মিনিটের মতো।

সেখানে নেমে একটু এগিয়ে ভিতরের দিকে গিয়ে গভঃ বাস যেখান থেকে ছাড়ে সেই কাউন্টারের দিকে গিয়ে বাসে উঠে পড়বেন, যদি খুজে না পান তাহলে যে কাউকে জিজ্ঞেস করবেন যে আপনি ভেলর সিটি যাবেন তাহলে দেখিয়ে দিবে, টিকিট প্রতিজন ১৩০ রুপি যা ডিরেক্ট বাস। ওখান থেকে ১৫ মিনিট পর পর বাস ছাড়ে তাই সাথে সাথে পেয়ে যাবেন। টিকিট কাউন্টার থেকে নিতে পারেন অথবা বাসের ভিতর উঠেও দিতে পারেন, সমস্যা নেই।

বাসে যেতে প্রায় ২ ঘন্টা ৩০ মিনিটের মতো সময় লাগবে এবং আপনি ভেলর New Bus stopage এ নামবেন অথবা বাস স্টপেজের ওখানে যাওয়ার ১ কি.মি. আগে বিশাল এক ফ্লাইওভার আছে সেখানে লোক নামানোর জন্য ১ মিনিট থামে, চাইলে সেখানেও নেমে যেতে পারেন। ওখানে বা বাস স্ট্যান্ডে নেমে একটি অটো নিয়ে সি এম সি হাসপাতালের মেইন গেট পর্যন্ত ঠিক করবেন আর ভাড়া নিবে ৫০/৬০ রুপি বা ৭০ রুপির মতো।

বাস স্ট্যান্ড থেকে হাসপাতালের দূরত্ব মাত্র ৩ কি.মি.দূরে এবং মেইন গেট বরাবর নেমে ভাড়া দিয়ে অটোওয়ালাকে বিদায় জানিয়ে দিন।

আপনি চেন্নাই বা ভেলরে নির্ভয়ে যাতায়াত করুন, আমাদের দীর্ঘ ৪ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি কখনো কোন ধরনের বাটপার বা খারাপ কিছু তেমন চোখে পড়ে নাই, তবুও নিজে সতর্ক হয়ে চলাফেরা করবেন।

#ভেলর হাসপাতালে পৌঁছে কোথায় উঠবো?

উত্তরঃ আপনি মেইন গেট বরাবর নেমে একটু রাস্তার বিপরীত দিকে তাকালে দেখবেন একটু ভিতরের দিকে রাস্তা চলে গেছে যার দুপাশে দোকান পাট ও প্রচুর মানুষের আনাগোনা, এই রোডকে বলা হয় Gandhi Road (গান্ধী রোড)।

রোডের আশে পাশে বা আরো ভিতরের দিকে গলির মতো রাস্তা আছে যেখানে বহু হোটেল পাবেন, সেখানে ২/৩ টা হোটেল দেখুন তারপর উঠে পড়ুন তবে ভিতরের এই হোটেল গুলোর ভাড়া একটু কম হয়ে থাকে যেমন ৩৫০ রুপি, ৩৮০ রুপি, ৪০০ রুপি, ৪৫০ রুপি, ৫০০ রুপি এরকম, যেমন হোটেল তেমন ভাড়া। প্রতিটি হোটেলে রান্না করতে পারবেন।

সি এম সি মেইন গেটের অপজিটে যে হোটেল গুলো আছে রাস্তা বরাবর সেগুলোর ভাড়া অনেক বেশি যেমন ৭০০ রুপি, ৮০০ রুপি বা ৮৫০ রুপি।

#একটু কমের মধ্যে কোথায় হোটেল পাবো?

উত্তরঃ আপনি ভিতরের দিকে গেলে মানে ২/৩ টি গলির মতো রাস্তা, এদিক সেদিক গিয়ে আরো বহু হোটেল পাবেন, জায়গার নাম Saidapet (Main Bazar) ওখানেও বেশ জাকজমকপূর্ন, বাজার আছে, বাজার আছে, মাছের দোকান, গোস্তোর দোকান ইত্যাদি।

এখানেও আপনি ২৮০ রুপি থেকে ৩৫০ রুপির মধ্যে ম্যাক্সিমাম হোটেল পাবেন তবে ২/৩ টা হোটেল পাবেন যাদের ভাড়া ৪০০/৪২০ রুপি সেসব হোটেলের রুমের কন্ডিশন একটু ভালো যেমন টাইলস বসানো, একটু পরিস্কার এই আর কি।

এছাড়াও Mysore Palace হোটেলে উঠতে পারেন, ভাড়া মাত্র ৩৫০ রুপি করে প্রতিদিন এবং লিফট ফ্যাসিলিটিজ আছে।

#আচ্ছা, রান্না করার ব্যবস্থা বলতে কি রকম?

উত্তরঃ আপনি ভেলরের ৯৫% হোটেলে রান্না করার অনুমতি পাবেন, কিছু হোটেলে আলাদা ভাবে কমন রান্নাঘর আছে, আবার কিছু কম দামি হোটেলে রান্না করতে পারবেন কিন্তু সেটা রুমের মধ্যে বা বারান্দাতে। আপনার যেমন দরকার তেমন হোটেলে থাকবেন আবার কিছু হোটেল গুলোতে রান্না করার অনুমতি নেই।

সেগুলো VIP টাইপের এবং একদম হাসপাতালের সামনে আর এগুলোর ভাড়াও বেশি যেমন ৮০০ রুপি থেকে ৯০০ রুপি, (নন এসি) আর এসি রুমের ভাড়া নিবে ১১০০/১২০০ রুপির মতো।

এসব হোটেলগুলোতে রান্না করতে দিবে না যেহেতু ভাড়া বেশি এবং ভি আই পি সেজন্য আপনি অনুমতি পাবেন না। যাদের টাকার কোন ঝামেলা নেই কিন্তু রান্না করতে সমস্যা তারা এসব হোটেলে থাকতে পারেন।

#তাহলে VIP কিছু হোটেলের নাম দেওয়া সম্ভব?

উত্তরঃ কেন নয়। যেমন AAVANAA HOTEL, HOTEL SUSIL, HOTEL CHINA TOWN ইত্যাদি। এগুলোর ভাড়া ৮০০/৯০০ রুপি প্রতিদিন।

তবে Vaibhab Residency নামে একটি হোটেল আছে, ভাড়া ৮০০/৯০০ রুপি তবে এই হোটেলের প্রতি ফ্লরে আলাদা ভাবে রান্না করার কমন স্পেস আছে যা অনেক লম্বা ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন। ৪/৫ জন এক সাথে রান্না করতে পারবেন সেই ব্যবস্থা আছে এবং নিট এ্যান্ড ক্লিন।

আপনি নিঃশন্দেহ ভাবে এই হোটেলেও থাকতে পারেন। এটি Aavanaa Hotel এর একটু সামনে এগিয়ে ডান দিকের গলিতে মানে LIC অফিসের পাশে Life Insurance Corporation (LIC)। এই হোটেল যে গলির মধ্যে সেই গলি বরাবর একদম মাথায় গেলে Saidapet or Main বাজার যেখানে আরো সস্তায় হোটেল রুম পাওয়া যায়, অলরেডি উপরে বলেছি।

#সি এম সি তে পৌছে প্রথমে কি করতে হবে?

উত্তরঃ প্রথমে যে কোন হোটেলে উঠবেন। আপনি যদি সকাল ১০ টার মধ্যে হোটেলে উঠে থাকেন তাহলে সকাল ১১ টার মধ্যে 900B বিল্ডিং এর ওখানে চলে যান কারণ এই 900B ব্লিডিং থেকেই আপনার চিকিৎসার প্রাথমিক ধাপ শুরু হবে, এটা অবশ্যই মনে রাখবেন।

এটি সকাল ৭ টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত চালু থাকে তাই আপনি যদি ভেলরে বিকেল বা রাতে পৌঁছান তাহলে পরের দিন ভোর ৬ টার মধ্যে ওখানে গিয়ে হাজির হবেন কারণ অনেক ভিড় থাকে। তাই আগে গিয়ে সিরিয়ালে থাকলে আগে কাজ শেষ করতে পারবেন।

#ঠিক বুজলাম না, 900B বিল্ডিং এ কেন এবং কি জন্য যেতে হবে?

উত্তরঃ ভেলরের সি এম সি হাসপাতালে যারা ডাঃ দেখাতে আসেন মানে বাইরের দেশ থেকে যেমন বাংলাদেশ, নেপাল বা ভুটান বা অন্য দেশের পেসেন্ট তাদেরকে ইন্টারন্যাশনাল পেসেন্ট বলা হয়।

এই সব পেসেন্টদের কে সি এম সি তে চিকিৎসা নিতে হলে আগে এন্ট্রি করতে হবে এই 900B বিল্ডিং এর মধ্যে প্রবেশ করে তবে আপনি ডাঃ দেখাতে পারবেন অন্যথায় নয়। এটাই ভেলরের সি এম সি হাসপাতালের নিয়ম।

#মূলত 900B বিল্ডিং এ কি নিয়ে যেতে হবে?

উত্তরঃ আপনার পাসপোর্ট এর মেইন কপি, আর যদি অগ্রীম আ্যপ করে থাকেন তাহলে সেই কপি নিবেন এবং পরিবার বা অন্য আরো অনেকের থাকলে সবার এক সাথে না গেলেও হবে। আপনি একা সবার পাসপোর্ট বই ও ডাঃআ্যপ লেটার নিয়ে গেলেই হবে।

কারণ যারা ৩ জন মিলে গেছে তাদের মধ্যে ১ জন কে ভিতরে প্রবেশ করতে দিবে বাকি ২ জনের বাইরে ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করে থাকতে হবে তাই একা গেলেই হবে।

#900B বিল্ডিং এ প্রবেশের পর মূলত কি দিবে আমাদেরকে?

উত্তরঃ আপনি ভিতরে প্রবেশ করার পর সিরিয়াল অনুযায়ী অপেক্ষা করুন তারপর আপনার যখন ডাক আসবে তখন আপনি অফিসারের সামনে চেয়ারে বসে পাসপোর্ট কপি এবং অগ্রীম ডাঃ আ্যপ কপি দেখাবেন।

তারা অনলাইনে চেক করে প্রতি পাসপোর্ট এর জন্য একটি করে ফর্ম দিবে আর ফর্মে সাক্ষর করে দিবে। মূলত এই ফর্মটি নিয়ে বের হয়ে আসবেন মানে আপনার কাজ শেষ।

#এই ফর্ম কেন দিলো আর কোথায় জমা দিতে হবে, ঠিক বুঝতেছিনা, বুঝিয়ে বলবেন কি?

উত্তরঃ নো টেনশন, বুঝিয়ে বলছি। এই ফর্ম টি নিয়ে হোটেল রুমে চলে আসবেন এবং হাতে কলম নিয়ে ফর্ম টি ফিলাপ করবেন। ফর্মে আপনার নাম, পাসপোর্ট নং, অগ্রীম আ্যপ নিয়েছিলেন সেই আ্যপ এ দেখুন হাসপাতাল নাম্বার দেওয়া আছে সেটি লিখুন, ভিসা নাম্বার লিখুন, কত দিন ভেলরে থাকতে পারেন তা লিখুন যেমন ৩০ দিন বা ৬০ দিন বা ৯০ দিন এবং যে হোটেলে উঠেছেন সেই হোটেলেত নাম ও ঠিকানা লিখুন, আপনি কোথা থেকে আসছেন সেটাও লিখুন তারপর আপনি সাক্ষর করুন যা পাসপোর্টে দেওয়া আছে সেভাবে করুন। একদম সহজ ব্যাপার, কঠিন কিছু নয়।

এবার যে হোটেলে উঠেছেন সেই হোটেলের ম্যানেজার বা হোটেল বয়কে বলুন Cform করে দিতে, তারা আপনাকে সি ফর্ম ফিলাপ করে প্রিন্ট করে দিবে, চাইলে তারা আপনাকে পাসপোর্ট আর সেই ফর্ম নিয়ে পাশে পুলিশ স্টেশন সেখান থেকে অনুমতি এনে দিবে, এর জন্য পাসপোর্ট প্রতি ১০০ রুপি বা ১২০ রুপির মতো নিয়ে থাকে।

#আমি নিজে গিয়ে থানাতে ফর্ম জমা দিতে পারবো না?

উত্তরঃ জি পারবেন। তবে Cform ফিলাপ অবশ্যই আপনি যে হোটেলে উঠবেন সেই হোটেল থেকে করিয়ে নিতে হবে।

সি ফর্ম হচ্ছে ভেলরে যখন কোন হোটেল বা ফ্লাটে উঠবেন তখন হোটেল ওয়ালাকে কে লোকাল থানাতে জানাতে হবে যে তার হোটেলে আপনি উঠেছেন, এটা রুলস। আর এই ইনফো ফিলাপ করা হয় অনলাইনের মাধ্যমে যাকে সি ফর্ম বলা হয়ে থাকে এবং এটি হোটেলের ম্যানেজার বা হোটেল বয় করে থাকে হোটেলের মালিকের পক্ষ থেকে, আশা করি বুঝছেন।

#কিন্তু আমার তো অগ্রীম ডাঃ আ্যপ নেওয়া আছে তাহলে কি আমারও যেতে হবে 900B তে?

উত্তরঃ জি, 900B তে সবার যেতে হবে। আপনার ডাঃআ্যপ লেটারটি হাতে নিয়ে দেখুন, সেখানে স্পস্ট করে লেখা আছে সি এম সি তে পৌঁছে 900B তে এন্ট্রি করতে হবে তাহলে বুঝবেন।

#কিন্তু আমিতো এখানে সরাসরি চলে আসছি কোন অগ্রীম ডাঃ নেই নাই, কি করনীয়?

উত্তরঃ বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। আপনিও 900B তে যাবেন এবং এন্ট্রি করে ডাঃআ্যপ এর জন্য ওদেরকে বলবেন, ওরা চেক করে জানাবে কবে কোন ডাঃ ফাকা আছে সেই অনুযায়ী আ্যপ সিরিয়াল পাবেন, সেটা ২ দিন পরে বা ৫ দিন পরে বা ১০ দিন পরে বা ২০ দিন পরে হতে পারে।

তবে কিছু কিছু ডিপার্টমেন্ট এর ডাঃ সিরিয়াল পেতে নূন্যতম ১৫/২০ দিনের আগে পাবেন না যেমন নিউরোলজি ডিপার্টমেন্ট, ইউরোলজি এবং গ্যাস্ট্রোলজি ডিপার্টমেন্ট এই ৩ ডিপার্টমেন্ট এর অবস্থা খুবই খারাপ এবং সব সময় ভিড় লেগে থাকে।

#আচ্ছা, চিটাগং থেকে কম খরচে বাই রোডে কিভাবে ভেলর বা চেন্নাই সিটি যাবো?

উত্তরঃ বাস টু ট্রেন হচ্ছে কম খরচের মধ্যে সম্ভব। চিটাগং শহরের দাম পাড়া বা বদ্দর হাট থেকে বেনাপোল হয়ে কলকাতায় এসি বাস চলাচল করে অথবা বেনাপোল পর্যন্ত সরাসরি বাসে আসতে পারেন। বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে বাস ছাড়ে আর ভাড়া নিবে ১৮০০/২০০০ টাকা প্রতিজন, প্লিজ বাসের ব্যাপারে কাউন্টারে গিয়ে খোজ নিন তাহলে সঠিক তথ্য পেয়ে যাবেন।

যদি বেনাপোল বর্ডার পর্যন্ত বাস আসে তবে নেমে ভ্রমণ ট্যাক্স ৫৫০ টাকা জমা দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ইমিগ্রেশন শেষ করে ভারতের ইমিগ্রেশনে প্রবেশ করুন এবং সেখানের ইমিগ্রেশন শেষ করে ভারত এর মেইন গেট থেকে বের হয়ে পিচের রোডে প্রবেশ করে লাগেজ নিয়ে রাস্তার ওইপারে যান।

অনেক বাসের লোক আপনাকে ডাকাডাকি করবে, এই বাসে উঠুন, ওমুক বাসে উঠুন, আপনি এটা ইগনোর করে রাস্তার ওইপারে যাবেন এবং অনেক বাস কাউন্টার দেখতে পারবেন যেমন দেশ ট্রাভেলস, গ্রীনলাইন, শ্যামলি পরিবহন ইত্যাদি। সরাসরি বাস কাউন্টারে গিয়ে খোজ নিন কখন বাস ছাড়বে, আপনার চাহিদা মতো বাসের টিকিট করে নিন। এসি বাসের ভাড়া ৩০০ রুপি করে নিবে, সব বাসের ভাড়া একই রকম এবং এসি ভলভো বাস। অনেক আরামে যেতে পারবেন।

বাসে যেতে প্রায় ৩ ঘন্টা ৩০ মিনিটের মতো সময় লাগবে। যদিও যাত্রাপথে ২৫ মিনিটের বিরতি পাবেন, কোন এক হোটেলের সামনে রাখবে ফ্রেশ ও খাওয়া দাওয়ার জন্য। যাইহোক মারকুইস স্ট্রিট রোডে পৌঁছানোর পর নামিয়ে দিবে যা কলকাতার একদম পাশে লাস্ট স্টপেজ।

আবার যদি সরাসরি বাসে উঠেন মানে চিটাগং টু কলকাতা তাহলে একটু সুবিধা পাবেন মানে দ্রুত বর্ডার পার হতে পারবেন যেহেতু বাসের সুপার ভাইজার হেল্প করে থাকে।

যাইহোক কলকাতা পৌঁছে বাস থেকে নেমে একটা হলুদ ট্যাক্সি নিতে পারেন এবং হাওড়া বা ছত্রাগাছি রেল স্টেশনে যাবেন। আপনার যে স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়বে সেই স্টেশনে গিয়ে নামবেন এবং ভাড়া নিবে ১৭০/২০০ রুপির মতো, একটু দামাদামি করে নিবেন অথবা উবার ব্যবহার করতে পারেন। ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করবেন, যদি ট্রেন ছাড়ার ৪/৫ ঘন্টা আগে পৌঁছে যান তাহলে পেইড ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করুন এবং প্রতি ঘন্টা ২৫ রুপি করে এসি রুম, টিভি, গোসল খানা সবই পাবেন অথবা ২৫০/৩০০ রুপি দিয়ে রিটায়ারিং রুম ভাড়া করে সেখানে থাকতে পারেন।

অর্থাৎ আপনাকে অল্প খরচের মধ্যে চেন্নাই ভা ভেলরে যেতে হলে বাস ও ট্রেন যোগে যেতে হবে এবং সেটা বেনাপোল বর্ডার পার হয়ে তবে আগে থেকে ট্রেনের অগ্রীম টিকিট বুকিং দিয়ে রাখবেন নতুবা ট্রেনের টিকিটের জন্য আপনাকে কলকাতা ১ বা ২ রাত থাকা লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে হোটেল ভাড়া, খাওয়া দাওয়া বাবদ এক্সট্রা খরচ হয়ে যাবে।

তাই মিনিমাম চেন্নাই বা ভেলরে যাওয়ার অন্তত ১৫/২০ দিন আগে টিকিট বুকিং দিবেন কোন এজেন্সির মাধ্যমে।

#কলকাতা থেকে ট্রেনের ভাড়া কেমন এবং কত সময় লাগে পৌঁছাতে?

উত্তরঃ কলকাতা থেকে এসি স্লিপার ভাড়া প্রতিজন ২৬৫০ থেকে ২৭০০ টাকা প্রতিজন এবং নন এসি স্লিপার ভাড়া প্রতিজন ১১৮০ থেকে ১৩০০ টাকা পর্যন্ত। বিভিন্ন ট্রেনে বিভিন্ন রকম তবে ৯৮% ট্রেনের একই রকম ভাড়া হয়ে থাকে।

কলকাতা থেকে চেন্নাই ট্রেনে পৌঁছাতে প্রায় ২৮/২৯ ঘন্টার মতো লাগে, কোন ট্রেনে ২৭ ঘন্টা, কোন ট্রেনে ২৮ ঘন্টা আবার ২৯ ঘন্টাও লাগে। তবে ২৭ ঘন্টার আগে কোন ট্রেন ই পৌঁছাতে পারে না।

#কোন কোন সময়ে ট্রেন ছাড়ে এবং কোন স্টেশন থেকে?

উত্তরঃ ভেলর বা চেন্নাই সিটি যাওয়ার জন্য কয়েকটি ট্রেন প্রতিদিন ছাড়ে যেমন প্রতিদিন হাওড়া স্টেশন থেকে ২ টি ট্রেন চেন্নাই এর উদ্দেশ্য নিয়ে যাত্রা করে। একটি হচ্ছে HWH MASS MAIL যা রাত ১১ টা ৪৫ মিনিটে হাওড়া স্টেশন থেকে প্রতিদিন ছাড়ে এবং চেন্নাই সেন্ট্রাল স্টেশনে গিয়ে থামে পরশু ভোর ৪ টা থেকে ৫ টার মধ্যে।

তবে এই ট্রেনটি ২২ বা ২৩ নং প্লাটফর্ম থেকে সাধারণত ছাড়ে তবে প্লাটফর্ম যে কোন সময় চেঞ্জ হয়ে থাকে তবে তা ট্রেন ছাড়ার ৪০ বা ৫০ মিনিট আগেই জানতে পারবেন। ওখানে ডিজিটাল ডিসপ্লে দেখাবে কখন কোন ট্রেন কোন প্লাটফর্ম থেকে ছাড়বে তাই টেনশনের কিছু নেই।

আরো একটি ট্রেন আছে যেমন Coromondal Exp (করোমন্ডল এক্সপ্রেস) এই ট্রেনটি প্রতিদিন হাওড়া স্টেশন থেকে ছাড়ে এবং দুপুর ২ টা ৪০ মিনিটে ছাড়ে আর চেন্নাই সেন্ট্রাল স্টেশনে গিয়ে থামে পরের দিন বিকেল ৫ টার মধ্যে।

এছাড়াও ছত্রাগাছি এবং শালিমার স্টেশন থেকে সাপ্তাহিক কিছু ট্রেন ছাড়ে যেমন SRC MASS AC EXP এই ট্রেনটি শুধু ছত্রাগাছি রেল স্টেশন থেকে প্রতি শুক্রবার ও মংগলবার ছাড়ে এবং সন্ধ্যা ৭ টায়, তবে এটি সম্পূর্ণ এসি ট্রেন, এতে কোন নন এসি সিট বা নন এসি কোন বগি নেই। এই ট্রেনটি পরের দিন রাত ১১ টায় চেন্নাই সেন্ট্রাল স্টেশনে পৌঁছায়।

#অহ, ভেলরের ট্রেনের বিষয়ে একটু বলুন?

উত্তরঃ চেন্নাই সিটি থেকে ভেলরের দূরত্ব প্রায় ১৪০ কি.মি. দূরে। হাওড়া স্টেশন থেকে প্রতিদিন একটি ট্রেন যাতায়াত করে যেমন HWH YPR EXP যা প্রতিদিন রাত ৮ টা ৩৫ মিনিটে ছাড়ে এবং পরশু গভির রাত ৩ টার আগে পৌঁছায় যা কাটপাডি স্টেশনে নামতে হবে।

এই ট্রেনেও সময় লাগবে প্রায় ২৮/২৯ ঘন্টার মতো তবে এই ট্রেনটি মূলত কাটপাডি স্টেশন হয়ে সরাসরি বেংগালুর গিয়ে থামবে। তাই কেউ চাইলে এই ট্রেনে করে বেংগালুর সিটিতেও যেতে পারবেন। প্রতিজন নন এসি স্লিপার ভাড়া ১২০০ টাকা এবং এসি স্লিপার ভাড়া ২৭৫০ টাকা।

আরো একটি ভেলরের ট্রেন আছে যা সাপ্তাহিক ট্রেন হিসেবে পরিচিত যেমন Humsafar exp এই ট্রেনটি প্রতি মংগলবার দুপুর ১২ টা ৪০ মিনিটে ছাড়ে যা হাওড়া স্টেশন থেকে এবং ভেলরের কাটপাডি স্টেশন গিয়ে পৌঁছায় পরের দিন বিকেল ৫ টার সময়ে।

এটি সম্পূর্ণ এসি ট্রেন এবং এসি স্লিপার সিট (3A) tier বগি থাকে, কোন নন এসি বগি বা সিট থাকে না। তবে এই ট্রেনের ভাড়া অনেক বেশি থাকে যেমন ৩০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে প্রতিজন।

মূলত এই ট্রেনের ভাড়া প্লেন ফেয়ারের মতো চেঞ্জ হয়ে থাকে ১ দিন বা ২ দিন পর তাই কখন কম ফেয়ার বা কখন বেশি ফেয়ার সেটার কোন গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবে না।

যেমন অনেকে আমাদের কাছে অগ্রীম টাকা জমা দেওয়ার পর আমরা যখন বুকিং করতে গেলাম তখনো ফেয়ার বেড়ে যেতে পারে তাই এই বিষয়টি জেনে রাখবেন, বিশেষ করে এই ট্রেনের ক্ষেত্রে।

আরো একটি সাপ্তাহিক ট্রেন ভেলরের দিকে যায় যেমন HWH MYS EXP যা হাওড়া স্টেশন থেকে প্রতি শুক্রবার বিকেল ৪ টা ১০ মিনিটে ছাড়ে এবং ভেলর পৌঁছায় পরের দিন রাত ৯ টার আগে।

নন এসি স্লিপারে ভাড়া ১২০০ টাকার মতো এবং এসি স্লিপারের ভাড়া প্রায় ২৭৫০ টাকার মতো।

মূলত ভেলরের ট্রেনের অগ্রীম টিকিট নিতে হলে নূন্যতম ৩০/৪০ দিন আগে ছাড়া পাওয়া সম্ভব নয় তবে মাঝে মাঝে হামসাফার এক্সপ্রেস ট্রেনে পাওয়া যেতে পারে কারণ দাম অনেক বেশি।

#তাহলে ভেলর যাবো কিভাবে?

উত্তরঃ আপনি চেন্নাই পর্যন্ত টিকিট নিয়ে তারপর চেন্নাই থেকে কাটপাডি আলাদা অন্য ট্রেনে যেতে পারবেন। চেন্নাই থেকে মাত্র ২ ঘন্টা লাগে ভেলর এর কাটপাডি স্টেশনে পৌঁছাতে। এই টিকিটও অগ্রীম নিয়ে নিতে পারবেন। আমাদের কাছ থেকে সব পাবেন অর্থাৎ চেন্নাই স্টেশন নেমে তারপর মাঝখানে ২/৩ ঘন্টা গ্যাপ দিয়ে চেন্নাই টু ভেলরের ট্রেনে উঠবেন।

#ভেলরে খাওয়া খরচ কেমন হতে পারে?

উত্তরঃ আপনি যদি রান্না করে খেতে পারেন তাহলে প্রতিবেলা ৩০ থেকে ৪০ রুপির মতো খরচ হবে অর্থাৎ প্রতিজন প্রতিবেলা এভারেজ ৩৫ রুপি করে হিসাব করলে প্রতিদিন ১০৫ রুপি করে খরচ হবে।

আপনি যদি ১৫ দিন ভেলরে থাকেন তাহলে ৪৫ বেলা খাবার বাবদ ১৫৭৫ রুপি প্রতিজন খরচ হবে তবে কেউ যদি একটু বেশি সৌখিন খাবার খেতে চান তাহলে তার ৪০/৪৫ রুপি প্রতি বেলা বাবদ খরচ হবে, এটা ডিপেন্ড করবে আপনার উপর।

১৫৭৫ রুপি *১.২২ = ১৯২১ টাকার মতো খরচ হবে ১৫ দিনের খাওয়া খরচ প্রতিজন। এখানে রুপির এক্সচেঞ্জ রেট স্বাভাবিক রেটে ধরা হয়েছে, কম বেশি হতে পারে।

#কিছু কাচা বাজারের দাম কি বলা যাবে?

উত্তরঃ জি। গরুর গোস্ত প্রতি কেজি হাড়সহ ২২০ রুপি করে, হাড়বাদে ২৬০ রুপি করে, কলিজা প্রতি কেজি ২২০ রুপি করে।

পিয়াজ প্রতি কেজি ৫০/৫৫ রুপি করে তবে মাঝে মাঝে ৭০/৭৫ রুপিও হয়ে থাকে।

পোটলের দাম একটু বেশি থাকে যেমন প্রতি কেজি ১০০ রুপি করে তবে মাঝে মাঝে ১২০/১৫০ রুপি হয়ে থাকে।

ডিমের দাম প্রতি পিস ৪ রুপি ৮০ পয়সা থেকে ৫ রুপি করে এবং ডিমের সাইজ বেশ বড় থাকে।

লিকুইড (তরল) দুধের প্রতি ৫০০ গ্রামের প্যাকেট ২৫ রুপি করে এবং ১ লিটার দুধের দাম ৫০ রুপি করে।

চিংড়ি (ছোট সাইজ) প্রতি কেজি ৪০০ রুপি করে এবং একটু বড় সাইজের কেজির দাম ৫৫০/৬০০ রুপি করে।

রুই/কাতলা মাছের কেজি ২৮০/৩০০ রুপি করে তবে সাইজ যদি বড় হয় তাহলে ৩২০/৩৫০ রুপি করে নিয়ে থাকে।

উপরে যে দাম উল্লেখ করা হয়েছে তা মূলত আপডেট প্রাইস মানে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ফেয়ার দেখে আসছি।

আরো যদি কোন তথ্য জানার দরকার হয় তাহলে মেসেজ বা কমেন্টস করুন, জানিয়ে দেওয়ার চেস্টা করবো।

#জরুরী প্রয়োজনেঃ ০১৭১৭-১৮৫৩৬০
(Whatsup & imo)

ভ্রমণ হবে সহজে

"পরবর্তীতে পড়ার জন্য শেয়ার করে রাখুন"