কিভাবে কলকাতা যাবেন এবং কলকাতার কোথায় ঘুরবেন, কোথায় খাওয়া-দাওয়া করবেন তার বিস্তারিত গাইডলাইন পড়ুন (নতুনদের জন্য)

যারা আগে কখনো ভারতে যান নাই তাদের ভারত বলতে কলকাতা শহর নামটি মাথায় আসে কারণ কলকাতা নামটি বাংলাদেশের মানুষের কাছে খুব পরিচিত এবং প্রিয়ও বটে। তাছাড়া এটি একদম কাছে এবং ঐতিহাসিক দিক দিয়ে বিবেচনা করলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি সিটি হিসেবে এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন দেশের কাছে পরিচিত।

এই শহরে ঘাটি গেড়ে ততকালীন ব্রিটিশ সরকার এই অঞ্চল শাসন করতো তাই অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে যা ছাত্রজীবনে জানা খুব জরুরী বা যে কারো জন্য শহরটিতে ঘোরাঘুরি অন্য রকম এক অভিজ্ঞতা।

মূলত কলকাতা সিটি হচ্ছে “পশ্চিমবংগ” রাজ্যের রাজধানী। এটিকে সাংস্কৃতিক শহরও বলা হয়ে থাকে। এটি হুগলি নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থিত এবং বাংলাদেশ সাইডের বেনাপোল বর্ডার পার হলে মাত্র ৮০ কিমি দূরে অবস্থিত।

এই সিটির মোট আয়তন প্রায় ১৯০ বর্গ কিমি এবং প্রায় ৫০ লক্ষ লোকের বসবাস তাহলে বুঝতেই পারছেন কতটা জনপ্রিয় একটি শহর। কলকাতা সিটিতে দেখার মতো অনেক কিছুই আছে যা দেখে শেষ করতে কম পক্ষে ২/৩ দিন লেগে যাবে। মোটামুটি ২ দিন থাকলে মেইন স্পটগুলো ঘুরাঘুরি করতে পারবেন।

#কিভাবে কলকাতা সিটি তৈরি হলো?

সুতানুটি, ডিহি কলকাতা ও গোবিন্দপুর নামে তিনটি গ্রাম নিয়ে মূল কলকাতা শহরটি গড়ে ওঠে। ঠিক ১৭শ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত এই গ্রামগুলির শাসনকর্তা ছিলেন মুঘল সম্রাটের অধীনস্থ বাংলার নবাবেরা।

১৬৯০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নবাবের কাছ থেকে বাংলায় বাণিজ্য সনদ লাভ করে। এরপর কোম্পানি কলকাতায় একটি দুর্গবেষ্টিত বাণিজ্যকুঠি গড়ে তোলে। ১৭৫৬ সালে নবাব সিরাজদ্দৌলা কলকাতা জয় করেছিলেন।

কিন্তু পরের বছর কোম্পানি আবার শহরটি দখল করে নেয়। যাইহোক ইতিহাস তো কিছুটা জানলেন এবার তাহলে খুটিনাটি বিষয় জানতে চেস্টা করি —-

তাহলে চলুন শুরু করা যাক ———

#প্রথম ধাপ

প্রথমে আপনাকে দেশের বাইরে যেতে হলে পাসপোর্ট করতে হবে। যদি পাসপোর্ট করা থাকে তাহলে দ্রুত পাসপোর্ট করে নিন এবং ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য এপ্লাই করুন। পাসপোর্ট করা এখন খুব সহজ কারণ ম্যাক্সিমাম জেলাতে পাসপোর্ট অফিস আছে এবং পাসপোর্ট করতে খরচ হবে প্রতিজন প্রায় ৫০০০ টাকার মতো।

পাসপোর্ট হয়ে গেলে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা করতে দিবেন। ভারতীয় ভিসা এখন আগের তুলনায় অনেক সহজ করে দিয়েছে তাই ঠিক ভাবে এপ্লাই করলে অল্প দিনের মধ্যে ভিসা পেয়ে যাবেন যেমন ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্ক ও চিটাগাং এম্বাসিতে জমা দিলে ৫ দিনের মধ্যে পেয়ে যাবেন এবং ঢাকার বাইরে জমা দিলে ১০/১২ দিন লেগে যাবে আর ভিসা ফি মাত্র ৮২৪ টাকা এবং এপ্লিকেশন ও প্রসেসিং বাবদ ৩০০ টাকা তাহলে ভিসা পেতে মোট ১১২৪ টাকার মতো খরচ হবে।

যাইহোক পাসপোর্ট ও ভিসা রেডি এখন কবে যাবেন সেটার বিষয়ে প্লান করে ফেলুন যেমন কোন তারিখে যেতে ইচ্ছুক। তবে যারা চাকরিজীবী তারা চাইলে বুধবার ও বৃহঃবার অফিস থেকে ছুটি নিতে পারেন তাহলে মংগলবার অফিস করে রাত ১২ টা ৪০ মিনিটের ট্রেনে করে কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে রওনা দিতে পারেন সেক্ষেত্রে বুধবার সকাল ৯ টার মধ্যে বেনাপোল স্টেশনে পৌঁছে যাবেন। এই ট্রেনের এসি সিটের ভাড়া নিবে ৯৫০ টাকা প্রতিজন এবং নন এসি চেয়ার কোচ সিটের ভাড়া নিবে ৫০০ টাকা করে এবং ট্রেনের সার্ভিসও যথেষ্ট ভালো।

যাইহোক কিভাবে বা কোন টাইমে যাবেন সেটা সম্পূর্ণ আপনাদের উপর নির্ভর করছে। আপনারা বেনাপোল পোর্ট পার হয়ে কলকাতা পৌঁছে যাবেন দুপুর ১২/১ টার মধ্যে তারপর মিডিয়াম বা ভালো মানের কোন হোটেলে উঠে পড়ুন। হোটেল নিতে পারেন Marquis Street বা Mirza Galib Road এ। এসব এরিয়া নিউমার্কেট থেকে একদম কাছে আর বহু হোটেল পাবেন যেমন Housez 43 Hotel যা মির্জা গালিব রোডে অবস্থিত আবার VIP Continental hotel মারকুইস স্ট্রিট, এরকম আরো অনেক নিট এ্যান্ড ক্লিন হোটেল পাবেন এবং ভাড়া প্রায় ২২০০/২৫০০ রুপির মতো বা আরো কমে পাবেন।

এখন জানাবো কলকাতা গিয়ে কি কি দেখবেন—–

#২য় ধাপ

১. ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল

ছবিঃ ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হুগলি নদির পাশে অবস্থিত।এটি ব্রিটিশ আমলে বানানো হয়েছিল। মূলত ইংল্যান্ডের রানী ১৯০১ সালে মারা যাওয়ার পর তার স্বরণে এটি বানানো হয়েছিল। এটির কাজ ১৯০৬ সালে শুরু হয় এবং ১৯২১ সালে শেষ হয়। এটি শ্বেত পাথর দিয়ে করা হয়েছিল এবং খুব নিখুত ভাবে করার চেস্টা করা হয়েছিল। এটি এখন জাদুঘর হিসেবে বিবেচিত।

এটির স্থপতি স্যার উইলিয়াম এমারসন যিনি একজন বিখ্যাত স্থপতি হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত। বেলফাস্ট সিটি হলের স্থাপত্য শৈলীর আদলে ভিক্টোরিয়া স্মৃতিসৌধের নকশা প্রস্তুত করেন স্যার উইলিয়াম এমারসন।

প্রথমে তাকে ইতালীয় রেনেসাঁ স্থাপত্যশৈলীতে স্মৃতিসৌধের নকশা প্রস্তুত করতে বলা হলেও, তিনি শুধুমাত্র ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর প্রয়োগের বিরোধিতা করেন এবং ইন্দো-সারাসেনিক শৈলীর সঙ্গে মুঘল উপাদান যুক্ত করে মূল সৌধের নকশা প্রস্তুত করেন।

এটি এখন ট্যুরিস্টদের জন্য ঘোরার ও দেখার অন্যতম নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন শত শত লোক এটি দেখার জন্য ভিড় করে থাকে।

প্রায় ৬৫ একর জায়গার উপর নির্মিত এবং তখনকার সময়ে ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকার মতো খরচ হয়েছিল।

#ঠিকানাঃ
১, ক্যূইন্স ওয়ে, কলকাতা সিটি।

#টিকিট ও সময়ঃ
বিদেশীদের জন্য ১৫০ রুপি করে এবং প্রতিদিন খোলা থাকে সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত তবে বিশেষ কিছু দিনে অফ থাকে যেমন স্বাধীনতা দিবস, হোলি, ঈদুল ফিতর ইত্যাদি।

২. হাওড়া ব্রীজ

ছবিঃ হাওড়া ব্রীজ, হাওড়া জেলা

এটি এখন রবীন্দ্র সেতু নামে পরিচিত অর্থাৎ পুরাতন নাম হচ্ছে হাওড়া ব্রীজ আর এই নামেই সবাই চিনে থাকে। এটি মূলত হুগলি নদির উপর অবস্থিত এবং কলকাতা ও হাওড়া শহরকে সংযোগ করেছে এই সেতুটি। এটি ১৮৭৪ সালে প্রথম তৈরি করা হয়েছিল এবং ১৯৪৫ সালে পুরনো সেতুর বদলে নতুন করে সেটু বানানো হয়। এই সেতুর উপর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮০০০০/৯০০০০ যানবহন চলাচল করে থাকে।

রবীন্দ্র সেতু নামকরণ করা হয়ে থাকে ১৯৬৫ সালের ১৪ ই জুন তবে মানুষ এখনো হাওড়া ব্রীজ নামে ডাকে এবং চিনে থাকে। এটি দেখতে কোন এন্ট্রি ফি লাগে না এবং বিকেলের পর দেখতে যেতে পারেন, রাতের আলোতে অসাধারণ লাগবে।

৩. সায়েন্স সিটি

ছবিঃ সায়েন্স সিটি, নিউ টাউন, কলকাতা

এটি কলকাতার চমৎকার একটি ঘোরার জায়গা এবং বিনোদন এরিয়া। এটি মূলত বিজ্ঞান সংগ্রহালয় এবং বিজ্ঞানকেন্দ্রিক বিনোদন উদ্যান। এটি কলকাতার নিউ টাউনে অবস্থিত যা রাজারহাট নামে পরিচিত এবং ১৯৯৭ সালে বানানো হয় এবং অসাধারণ পরিবেশ। এই ভিতরে প্রবেশ করে অনেক কিছু দেখতে পারবেন যা আগে কখনো দেখেন নাই।

মূলত কলকাতার ছাত্রছাত্রীদেরকে বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করতে এটি নির্মান করা হয়েছে। এখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ ঘুরতে যায় এবং ভালো সময় কাটাতে পারবেন, ভিতরে গিয়ে ক্যাবল কার চড়তে পারবেন।
অবশ্যই ঘুরে আসবেন কারণ মন প্রাণ জুড়িয়ে যাবে।

#ঠিকানা :
সায়েন্স সিটি, জে.বি.এস.হালডান এভিন্যিউ, কলকাতা

#টিকিটঃ
প্রতিজন ৪০ রুপি করে নিবে

৪. ইকো পার্ক

ছবিঃ ইকো পার্ক, ভারতের মধ্যে বেস্ট পার্ক

এটি কলকাতার নিউ টাউন বা রাজারহাটে অবস্থিত এবং ভারতের সবচেয়ে বড় উদ্যান। এটির আয়তন ৪৮০ একর এবং ভিতরে ১০৪ একরের আরো একটি দ্বীপ অবস্থিত। আমার দেখা সবচেয়ে সেরা একটি সময় কাটানোর স্থান বলে মনে হয়। ২০১২ সালের দিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এটি চালু করেন।

বিশেষ করে বিকেল ৩ টার পর যাবেন কারণ এখানে বিকেলের পর রমরমা পরিবেশ থাকে এবং প্রচুর ভীড় থাকে। বিকেলের পর অসাধারণ এক সময় কেটে যাবে যা আপনি ভাবতেও পারবেন না। রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকে তাই বিকেল বেলা ঘুরতে যাবেন।

পরিদর্শক কেন্দ্র, রেস্তোরাঁ, ফুড কোর্ট, নগর জাদুঘর, কারুশিল্প হাট নিয়ে গঠিত এই ইকো পার্ক।

#এন্ট্রি টাইমঃ (খোলা থাকে)

গ্রীষ্মকালীন সময়: (১ মার্চ থেকে ৩১ অক্টোবর)

মঙ্গলবার থেকে শনিবার = দুপুর ২:৩০ টা থেকে রাত ৮:৩০ টা।

রবিবার এবং ছুটির দিন = দুপুর ১২ টা থেকে রাত ৮:৩০ টা।

#শীতকালীন সময়: (১ নভেম্বের থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারী)

মঙ্গলবার থেকে শনিবার = দুপুর ১২ টা থেকে রাত ৭:৩০ টা।

রবিবার এবং ছুটির দিন = দুপুর ১১ টা থেকে রাত ৭:৩০ টা

#বন্ধ থাকেঃ সোমবার (সাপ্তাহিক)

#এন্ট্রি ফিঃ ৩০ রুপি করে প্রতিজন

৫. মাদার’স ওয়াক্স মিউজিয়াম

ছবিঃ মাদাম তুসো জাদুঘর, কলকাতা

এটি ভারতের প্রথম মোম শিল্পের জাদুঘর যা কলকাতা সিটিতে অবস্থিত এবং এটি ইকো পার্ক এর পাশেই অবস্থিত। এটি ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে নির্মান করেন এবং মাদাম তুসো জাদুঘরের আদলে তৈরিকৃত। পৃথিবীর বিখ্যাত কিছু শহরে এই জাদুঘর অবস্থিত। এটি দেখতে মোটেও ভুলবেন না। মূলত বিখ্যাত ব্যক্তিদের প্রতিচ্ছবি এই জাদুঘরে গিয়ে দেখবেন।

#খোলা থাকেঃ
সকাল ৯ টা ৩০ থেকে বিকেল ৫ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত

৬. ফোর্ট উইলিয়াম

এটি একটি দূর্গ যা হুগলি নদির তীরে অবস্থিত। আপনি এখানেও ঘুরে আসতে পারেন। ব্রিটিশ আমলে বানানো হয়েছিল এবং বিশাল এক অট্টালিকা। এটি ১৭৮১ সালে তৈরি করা হয়েছিল।

৭. পার্ক স্ট্রিট

এটি খুব জনপ্রিয় একটি এরিয়া, এখানে বিকেলের দিকে চরম ভিড় থাকে। এই রাস্তাটি ব্রিটিশ আমলে নামকরণ করা হয়েছিল যা এখনো অবধি বিদ্যমান। আপনি এখানে গিয়ে বিকেল বা সন্ধ্যার পর যেতে পারেন এবং দারুন সময় কাটাতে পারেন। এটি একদম নিউমার্কেট এরিয়ার কাছে অবস্থিত।

মাস্তি ও চা, ফুসকা ও অন্যান্য জিনিস খেয়ে টাইম পাসিং এরিয়া।

৮. কফি হাউজ

ছবিঃ বিখ্যাত কফি হাউজ, কলকাতা

ইন্ডিয়ান কফি বোর্ডের উদ্যোগে বাঙালি কফিসেবীদের জন্য সেন্ট্রাল এ্যাভিনিউর কফি-হাউস খোলা হয় ১৯৪১ বা ১৯৪২ সাল নাগাদ আর তার কিছুদিন পরেই খোলা হয় কলেজ স্ট্রিটের কফি-হাউসটি। পরে, ১৯৫৭ সাল নাগাদ অ্যালবার্ট হল কফি-হাউস ইন্ডিয়ান কফি বোর্ড এর আওতা থেকে বেরিয়ে এসে শ্রমিক সমব্যয়ের আওতায় আসে।

এই দুই কফি-হাউসই ছিল এককালের বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের প্রধান আড্ডাস্থল। নিকটতম বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় গুলির ছাত্রছাত্রীদের ভিড় করা ছাড়াও নামিদামী বুদ্ধিজীবী – লেখক, সাহিত্যিক, গায়ক, রাজনীতিবিদ, পেশাদার, ব্যবসায়ী ও বিদেশি পর্যটকদের আড্ডা দেওয়ার অবারিত জায়গা হিসাবে এটি খ্যাত।

এখানে বিখ্যাত কিছু লোক আড্ডা দিয়েছিলেন কোন এক সময় যেমন সত্যজিৎ রায়, মান্নাদে, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত ইত্যাদি।

এটিতে গিয়ে এক কাপ চা খেতে মোটেও ভুলবেন না। এটির লোকেশন নিউমার্কেট এরিয়া থেকে একদম কাছে অর্থাৎ ৩/৪ কিমি দূরে অবস্থিত।

#এন্ট্রি ফিঃ কোন ফি লাগে না

৯. শান্তি নিকেতন

ছবিঃ শান্তি নিকেতন, জোড়াসাঁকোর, কলকাতা

শান্তিনিকেতন কলকাতা সিটি থেকে একটু দুরে যা বীরভূম জেলার বোলপুর শহরের নিকট অবস্থিত একটি আশ্রম ও শিক্ষাকেন্দ্র।

১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ঈশ্বরচিন্তা ও ধর্মালোচনার উদ্দেশ্যে বোলপুর শহরের উত্তরাংশে এই আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন।
আপনি এখানেও ঘুরে আসতে পারেন তবে এখানে যেতে হলে একদিন আলাদাভাবে সময় দিতে হবে যেহেতু সিটি থেকে প্রায় ৩৫ কিমি দূরে। ট্যাক্সি ভাড়া করে যেতে পারেন বা শিয়ালদা থেকে ট্রেনে করে।

#খাওয়া দাওয়া কোথায় করবেন?

আপনি যদি মির্জা গালিব স্ট্রিট বা মারকুইস রোডের কোন হোটেলে উঠেন তাহলে Prince Hotel এ খেতে মোটেও ভুলবেন না, সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছের লাউয়ের তরকারি যা একদম ই বাংলাদেশের রান্নার স্বাদ পাবেন যা অন্য কোথাও পাওয়া অনেক কঠিন। দুপু ও রাতের খাবার মিলে প্রতিজন ৩০০ রুপির মধ্যে খুব ভালো ভাবে হয়ে যাবে আর খেয়েও শান্তি পাবেন।

উপরে প্রায় ৯ টি স্থানের বিষয় জানালাম তবে আরো অসংখ্য প্লেস আছে কিন্তু এইগুলো ৩ দিনের মধ্যে ঘুরে দেখতে পারবেন যেমন শান্তি নিকেতনের জন্য একদিন, মাদার’স ওয়াক্স মিউজিয়াম, ইকোপার্ক এবং সায়েন্স সিটির জন্য একদিন এবং অন্যান্য জিনিস দেখার জন্য একদিন তাহলে রিলাক্স নিয়ে সব দেখতে পারবেন। এছাড়া কেনাকাটার জন্য নিউমার্কেট তো আছেই।

আপনি সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত হলুদ ট্যাক্সি ভাড়া করে সারাদিন ঘুরতে পারেন সেক্ষেত্রে ১৬০০ বা ১৭০০ রুপি নিতে পারে ৪ জনের জন্য আবার চাইলে আলাদা ভাবে হলুদ ট্যাক্সিতে করে যেতে পারেন সেক্ষেত্রে আরো কম খরচ হবে বা উবার ব্যবহার করতে পারেন।

যারা কলকাতা সিটি ঘুরে দেখতে চান তারা আজই প্লান করুন এবং মিনিমাম ৩/৪ দিন থাকবেন সেই ভাবে প্লান করে প্রস্তুতি নিন।

ঘরে বসে ভারতের অভ্যন্তরীণ ট্রেন টিকট/যে কোন এয়ার টিকট, হোটেল বুকিং, সি এম সি ডাঃ আ্যপ এবং ভ্রমণ প্লান নিন আর নিশ্চিন্ত মনে ঘুরুন।

#জরুরী প্রয়োজনেঃ ০১৭১৭-১৮৫৩৬০
(Whatsup & imo)

ভ্রমণ হবে সহজে

লেখাঃ শেখ আব্দুর রহমান

"পরবর্তীতে পড়ার জন্য শেয়ার করে রাখুন"